DBC News
আবারও ফাইনালে স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পুড়লো বাংলাদেশ

আবারও ফাইনালে স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পুড়লো বাংলাদেশ

আবারও স্বপ্নভঙ্গ, আবারও তীরে এসে তরী ডোবা৷ এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ফাইনালে ভারতের কাছে ৩ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। গেল চার আসরে এই নিয়ে তিনবার এশিয়া কাপের ফাইনাল হারলো টাইগাররা। বাংলাদেশের দেয়া ২২৩ রানের টার্গেটে ইনিংসের শেষ বল অবদি লড়ে ৭ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় টিম ইন্ডিয়া। 
 
সকালের সূর্য যে সবসময় দিনের পূর্বাভাস দেয়না সেটারই যেন বড় উদাহরণ হয়ে থাকলো এশিয়া কাপের ফাইনাল। তাইতো এদিন মরুর বুকে সবচেয়ে বেশি আলো ছড়ানো মানুষটার মুখই রাতের অন্ধকারে সবচেয়ে বেশি আধার কালো দেখালো।

লিটন দাস এদিন যে শুধু উজ্জ্বল ছিলেন তাই নয়, রীতিমতো ঝড় তোলেন দুবাইয়ে। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দারুন কাজে আসে মাশরাফির মিরাজ চমকও। ছয়ের উপর রানরেটে টুর্নামেন্টের সেরাতো বটেই বাংলাদেশ গড়ে ভারতের বিপক্ষেই নিজেদের সর্বোচ্চ ওপেনিং জুটির রেকর্ড।

যদিও ১২০ রানের জুটিতে মিরাজের অবদান শুধু ৩২। ২১ ওভারের মাথায় ভারতীয়দের স্বস্তি এনে দেন কেদার যাদব। তবে কেন তাকে এই মূহুর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রতিভাবান বলা হয় সেটা সারা বিশ্বকে বুঝিয়ে দিতে থাকেন লিটন দাশ। ব্যাট যেন কখনো খাপখোলা তলোয়ার, আবার কখনো শিল্পের তুলি, ঘরোয়া ক্রিকেটে যেটা হরহামেশা করে থাকেন এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে পেলেন সেই কাঙ্খিত ৩ অঙ্কের দেখা। আর সেটাও মাত্র ৮৭ বলে।

তবে একপ্রান্তে লিটনের ব্যাট যেমন চোখের আরাম দিচ্ছিল অন্যপ্রান্তে যেন মড়ক লাগে। ইমরুল চাহালের দুর্দান্ত ডেলিভারির শিকার, কিন্তু সবচেয়ে ফর্মে থাকা মুশফিক, সবচেয়ে দরকারের দিনে দায়িত্বজ্ঞানহীন। এরপর মিঠুনের ভুল বোঝাবুঝি ও রিয়াদের ফাঁদে পড়া। বিনা উইকেটে ১২০ থেকে ৫ উইকেটে ১৫১ বাংলাদেশ। 

তবে লিটনকে আউট করতে এদিন বিশেষ কিছুর দরকার ভারতের। ধোনির ক্ষীপ্রতার সাথে তাদের সেই বিশেষ কিছুটা উপহার দেন থার্ড আম্পায়ার। ১২ চার ও ২ ছক্কায় এলকেডির ১১৭ বলের ইনিংস থামে বিতর্কিত সিদ্ধান্তে।

বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের স্বপ্ন শেষ তখনই। ৩টা রানআউটের পর তাই শেষদিকে সৌম্যর ৩৩ শুধু স্কোরটাকে ভদ্রস্থ করেছে। 

২২২ ডিফেন্ড করতে হলে অসাধারণ কিছু করতে হত বাংলাদেশকে। ১ম বাংলাদেশী হিসেবে ব্যাটিংয়ে শুরুর পর বল হাতেও শুরুটা মিরাজের। কিন্তু ১ম ব্রেকথ্রু দেন নাজমুল, দলীয় ৩৫ রানে ধাওয়ানকে ফিরিয়ে। এরপর রাইডুকে উইকেটে জমতে দেননি ক্যাপ্টেন ম্যাশ। তবে মুল আশাটা জাগান রুবেল, ৪৮ রান করা অধিনায়ক রোহিতকে ফিরিয়ে।

এরপর অভিজ্ঞ ধোনি আর কার্তিক ৫৪ রানের জুটি গড়লেও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ম্যাচটা কখনও হাতছাড়া করেনি টাইগাররা। বরং ৩৭ রানে দিনেশ আর ৩৬ রানে ধোনির বিদায়ের পর ম্যাচটা যেন হেলে পরে বাংলাদেশের দিকেই।

শেষ ৫ ওভারে দরকার ২৬। সমীকরনটাকে সহজ বানিয়ে ফেলেছিলেন জাদেজা আর ভুবি। কিন্তু পাশা উল্টে যায় আবার। পরপর ২ ওভারে এ দুজন রুবেল আর মুস্তার শিকার হলে, শেষ ওভারে ভারতের দরকার পড়ে ৬ রানের। কিন্তু ক্রিকেট বিধাতার যেন লাল-সবুজের দিকে মুখ ফেরাবেন না বলেই ঠিক করে রেখেছেন, তাইতো রিয়াদের করা ইনিংসের শেষ বলে এমন সমাপ্তি।

এশিয়া কাপের ফাইনালে হারের জন্য ব্যাটিং ব্যর্থতাই দায়ী। তবে, দারুণ করেছেন বোলাররা। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। শেষ ওভারে স্পিনার দিয়ে বল করারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, ফাইনাল জেতার কৃতিত্ব দলের স্পিনারদের দিয়েছেন ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মা। চ্যাম্পিয়ন হলেও বাংলাদেশেরও প্রশংসা করেছেন তিনি।