DBC News
কোটা বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন; শিগগিরই প্রজ্ঞাপন

কোটা বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন; শিগগিরই প্রজ্ঞাপন

সরকারি চাকরিতে ১ম ও ২য় শ্রেণির কোটা বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। তবে কোটার প্রয়োজন হলে সরকার সেটা পর্যালোচনা করবে। আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে, শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটি অনুমোদন দেয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে সরকারি চাকরিতে ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত নিয়োগ হবে মেধার ভিত্তিতে এবং বাকি গ্রেডগুলোতে অর্থাৎ আগের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে কোটা বহাল রাখার প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, দুই একদিনের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।অনগ্রসর জনগোষ্ঠী যেমন প্রতিবন্ধীদের জন্য ১শতাংশ কোটা বহাল রাখা হবে বলেও জানান তিনি।

৪০তম বিসিএস সহ যেসব বিজ্ঞপ্তি চাকরির জন্য প্রকাশ করা হয়েছে সেক্ষেত্রে কোটা বহাল থাকবে না বাতিল হবে তা সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। চাকুরির বিঞ্জাপণে উল্লেখ আছে কোটার ব্যাপারে সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই কার্যকর হবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে গত ১৭ই সেপ্টেম্বর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ কোনও কোটা না রাখার সুপারিশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে প্রতিবেদন জমা দেয় কোটা পর্যালোচনায় গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটি। পরে ২০শে সেপ্টেম্বর সরকারি কোটা বাতিলে কমিটির সুপারিশ অনুমোদন দেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ওই দিন শফিউল আলম জানান, 'এখন যেহেতু ফার্স্ট ক্লাস এবং সেকেন্ড ক্লাস নেই, তাই ৯ম থেকে ১৩ তম গ্রেড পর্যন্ত কোটা থাকবে না।'

এর আগে, সরকারি চাকুরিতে কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে গেল এপ্রিলের শুরুতে অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।  এর ফলে দেখা দেয় অচলাবস্থা। এই অবস্থায় ১১ই এপ্রিল জাতীয় সংসদে সব ধরনের কোটা পদ্ধতি বাতিলের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিষয়টি পর্যালোচনা করতে ২রা জুলাই মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়।

সে সময়, সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা রেখে অন্যান্য কোটা বাতিলের পক্ষে মত দেয় কোটা সংস্কার পর্যালোচনায় গঠিত সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি।

এদিকে, গতকাল মঙ্গলবার বিকেলেও, রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে মানববন্ধন করা হযেছে। মানববন্ধনে তারা কোটা বাতিল নয়, পাঁচ দফার ভিত্তিতে কোটা সংস্কারের দাবি জানান। দফা গুলো হলো-

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে; 'সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা সংস্কার করে ৫৬ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা;

কোটায় কোনও ধরনের বিশেষ নিয়োগ না দেয়া;

সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহারের সুযোগ না দেয়া;

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সবার জন্য একই বয়স নির্ধারণ রাখা;

কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে শূন্য পদগুলোতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া;

প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটার ৩০ শতাংশ, জেলা কোটায় ১০ শতাংশ, নারী কোটায় ১০ শতাংশ ও উপজাতি কোটায় ৫ শতাংশ চাকরি সংরক্ষণ করা আছে। এই ৫৫ শতাংশ কোটায় পূরণযোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সে ক্ষেত্রে এক শতাংশ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়োগের বিধান রয়েছে। সেক্ষেত্রে মোট কোটা দাঁড়ায় ৫৬ শতাংশ। বাকি ৪৪ শতাংশ পদে নিয়োগ পান মেধা তালিকায় থাকা প্রার্থীরা।

আরও পড়ুন

'জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকদের ভোট দেবেন না'

স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ও জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকদের ভোট না দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  শুক্রবার বিকেলে...

'কামাল হোসেনের গাড়িতে হামলার তদন্ত হবে'

ড. কামাল হোসেনের গাড়িতে হামলার ঘটনায় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। আজ শুক্রবার রাজধানীর মহাখালীর আরজত পাড়...

ভিকারুননিসার শ্রেণি শিক্ষক হাসনা হেনার জামিন মঞ্জুর

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক হাসনা হেনাকে জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রবিবার বিকেলে তাঁকে জামিন দেয়া হয়। এর আগে, শিক্ষক হাসনা হেনার ম...

শ্রেণি শিক্ষকের মুক্তির দাবিতে ভিকারুননিসায় বিক্ষোভ অব্যাহত

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শ্রেণি শিক্ষক হাসনা হেনার মুক্তির দাবীতে আজও বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। দুপুরে, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধা...