DBC News
বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ: বাজার ও বিনিয়োগকারীদের উন্নয়ন কতটা?

বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ: বাজার ও বিনিয়োগকারীদের উন্নয়ন কতটা?

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ঝুঁকি কমাতে দ্বিতীয়বারের মত 'বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ' উদযাপন করছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন। তবে গতবছর এই আয়োজন হলেও তা থেকে বাজার ও বিনিয়োগকারীদের কতটা উন্নয়ন হয়েছে- সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই বিএসইসির কাছে। আর বিশ্লেষকরা বলছেন- অনিয়ম আর কারসাজি বন্ধ না হলে এসব আনুষ্ঠানিকতায় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা হবে না।

পুঁজিবাজার মানেই ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ। তাই বিনিয়োগ শিক্ষার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দিতে চায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, বিএসইসি। এবারেও রয়েছে সপ্তাহজুড়ে আয়োজন।

বিএসইসি নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ আহমেদ বলেন, ‘কোথায় ঝুঁকি বেশি, কোথায় কম এবং এই বাজারে আসতে গেলে কী কী জিনিস দেখতে হবে, এই বিশ্লেষণগুলো যদি কেউ নিজে থেকেই করতে পারেন তাহলে কিন্তু ওনারা নিজেরাই নিজেদের সুরক্ষা প্রদান করতে পারবেন। এবং এই ব্যপারে আমরা সহায়ক ভূমিকা পালন করার জন্য এই অনুষ্ঠানগুলো করছি।’

বিশ্লেষকরা বলছেন- বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা ও অনিয়ম বন্ধে আনুষ্ঠানিকতা নয়- দরকার তদারকি সংস্থার সক্রিয় তৎপরতা।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ড. আবু আহমেদ বলেন, ‘এটার সঙ্গে শেয়ার বাজারের উন্নতির সম্পর্ক খুবই কম। আর বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য দিবস পালন করতে হয় না। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজন রেগুলেশন এবং সারভাইলেন্স। অনেক অনিয়ম হচ্ছে স্টক মার্কেটে, সেটা নিয়ে আমি কোনও তৎপরতা দেখি না।’

তবে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিলে বাজার নেতিবাচক হওয়ার আশঙ্কা বিএসইসির। বিএসইসি মুখপাত্র সাইফুর রহমান বলেন, ‘একটা শেয়ার দাম বাড়লেই আমরা পরের দিনই গিয়ে সেটাতে হস্তক্ষেপ করি। ফলে এটার মার্কেটে যে স্বাভাবিক গতি সেটা কিন্তু বাধাগ্রস্থ হয়।’

এদিকে, গতবছরের এমন আয়োজন থেকে বিনিয়োগকারী বা বাজার কী উপকার পেয়েছে- তার কোনও নির্দিষ্ট তথ্য নেই বিএসইসির কাছে। এ বিষয়ে বিএসইসি এর নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ আহমেদ বলেন, ‘এটাতো একটা চলমান ধারা। এই ধরনের একটি স্বল্পপরিসরের আয়োজনে এইরকমভাবে ব্যাখ্যা করাটা কঠিন। বিনিয়োগ শিক্ষাটা অনেকটা গাছ লাগানোর মত। আজকে চারার বীজ লাগালাম, তারপর চারা হবে, এরপর বড় হবে, এটা থেকে ফল আসবে, তারপরে না আমরা এটা থেকে সুবিধা পাব।’

আর বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে পারছে না বিএসইসি- অভিযোগ এই বিশ্লেষকের। পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ড. আবু আহমেদ বলেন, ‘এটা শুধুই রুটিন অনুযায়ী কাজ করছে। যেটা করলে বাজারটার প্রকৃত পক্ষে উন্নয়ন হবে বা উন্নতি ঘটবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে, সেখানে আমি কখনও কোনও উল্লেখযোগ্য তৎপরতা দেখি নি বিএসইসির।’

গেল বছরের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ৩৮৯টি কর্মসূচীর মাধ্যমে ২১ হাজার ৭৯৪ বিনিয়োগকারীকে বিনিয়োগ শিক্ষা দিয়েছে বিএসইসি।