DBC News
দুই দফায় হাসপাতালে গিয়েও খালেদা জিয়ার দেখা পেলেন না চিকিৎসকরা

দুই দফায় হাসপাতালে গিয়েও খালেদা জিয়ার দেখা পেলেন না চিকিৎসকরা

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড রবিবার সকাল থেকে দুই দফায় তাঁর কেবিনে গিয়েও দেখা পাননি। দুপুর ১টায় চিকিৎসকরা তাঁর কেবিনের দরজায় নক করলে, বিএনপি নেত্রী দরজা খোলেননি বলে জানিয়েছেন, বিএসএমএমইউ পরিচালক বিগ্রেডিয়ার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল হারুন। 

তিনি জানান, বেগম জিয়ার চিকিৎসার যাবতীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করা হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত আগের চিকিৎসা সেবা চলবে বলেও জানিয়েছেন, হাসপাতালের পরিচালক।

'খালেদা জিয়ার চিকিৎসা আগের সব ব্যবস্থাপত্র পর্যালোচনা করে, তার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে ডাক্তারদের যা বলবেন, সেইভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাঁর চিকিৎসার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হবে'-যোগ করেন ব্রিগেডিয়ার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল হারুন।

এর আগে, মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ রবিবার বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা শুরু হবে বলে জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ সময়ে বিএনপি নেত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিএসএমএমইউ'তে মেডিকেল বোর্ডের পাঁচ সদস্য উপস্থিত হন। এছাড়া, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের নেতৃত্বে চারজন আইনজীবী হাসপাতালে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যান।

গতকাল শনিবার পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নেয়া হয়। শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে পুরোনো ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তিনি কেবিন ব্লকের ৬১২ নম্বর কক্ষে আছেন।

এদিকে, খালেদা জিয়ার পছন্দের চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা করবেন জানিয়ে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আশা করেছেন, তাঁদের নেত্রীরসুচিকিৎসা পাবেন। তবে হাইকোর্টের নির্দেশনায় দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়ার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠনের কথা থাকলেও, বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশনা মানা হচ্ছে না।

গেল ৪ঠা অক্টোবর বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করতে ও চিকিৎসাসেবা শুরু করতে পাঁচ সদস্যের একটি বোর্ড গঠন করার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

কারাগারে যাওয়ার পর গত এপ্রিল মাসে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য একবার তাকে বিএসএমএমইউতে নেয়া হয়। এরপর তার অসুস্থতার কথা জানিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে ইউনাইটেড হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসার দাবি উঠলেও, সরকারের পক্ষ থেকে বিএসএমএমইউতে নেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়। তবে বিএনপি এ প্রস্তাবে রাজি ছিল না, একই সঙ্গে খালেদা জিয়াও সেখানে যেতে অসম্মতি জানিয়েছিলে।  

গত বৃহস্পতিবার হাই কোর্ট খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে ভর্তির আদেশ দেন। 

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার রায়ের পর থেকে, পুরোনো ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি হিসেবে ছিলেন ৭৩ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। 

আরও পড়ুন

ব্যারিস্টার মঈনুলকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান

সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে 'চরিত্রহীন' বলায় ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনেকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন আরও ১৪ জন বিশিষ্ট নাগরিক। শুক...

১৭৭ রোহিঙ্গা পুনর্বাসিত, দাবি মিয়ানমারের

১৭৭ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের যে দাবি করেছে মিয়ানমার, সে বিষয়ে বাংলাদেশকে কিছুই জানানো হয়নি। এমনটি জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। শুক্রবার টেলিফোনে...

'সাত দফা দাবির একটিও গ্রহণযোগ্য নয়'

'বিএনপি দুর্দশাগ্রস্থ দল। একে উদ্ধারের দায়িত্ব নিয়েছেন ডক্টর কামাল হোসেন'- শুক্রবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এ কথা বলেন। এসময় তিনি আর...

'চমক নিয়ে আসছে জাতীয় পার্টি'

জোট-মহাজোটের ভাঙা-গড়ার মধ্যে নতুন চমক নিয়ে আসছে জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন জাতীয় সম্মিলিত জোটে। এমনটাই বললেন পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার। আগামীকালের মহাস...