DBC News
ইলিশ উৎপাদন দ্বিগুণ, তবে এখনই রপ্তানি নয়

ইলিশ উৎপাদন দ্বিগুণ, তবে এখনই রপ্তানি নয়

টানা কয়েক বছর ব্যাপক উৎপাদন হওয়ার পরও, এখনই ইলিশ রপ্তানির কথা ভাবছে না সরকার। আগে দেশের সব মানুষের জন্য কম দামে বড়  ইলিশের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। তবে অভ্যন্তরীণ চাহিদার চেয়ে উৎপাদন বেশি হওয়ায়, সীমিতভাবে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেয়া যেতে পারে বলে মত গবেষকদের।

পরিসংখ্যান বলছে দেশে উৎপাদিত মোট মাছের ১২ শতাংশই ইলিশ। অথচ বছর দশেক আগেও, ইলিশের যোগান নেমে এসেছিলো দেড় লাখ টনের নিচে।  ২০০৮ সালে জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষায় কর্মসূচি হাতে নেয় সরকার। তারই সুফল পেতে থাকে বাংলাদেশ। গত ৯ বছরে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি।

ওয়াল্ড ফিসের পর্যবেক্ষণ বলছে, ইলিশ পাওয়া যায়, এমন ১১টি দেশের মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশেই উৎপাদন উর্ধ্বমুখী। বৈশ্বিক উৎপাদনের ৬৫ শতাংশেরই যোগান দেয় বাংলাদেশ। যদিও দেশের বাইরে রপ্তানি এখনও নিষিদ্ধ।

ওয়ার্ল্ড ফিস (ইকো-ফিস বাংলাদেশ) এর টিম লিডার ড. মো. আব্দুল ওয়াহাব বলেন, ‘সংরক্ষণবাদী নীতি নিয়ে অন্তত ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার মেট্রিকটন মাছ, এবং যে মাছটি এক কেজির থেকে বড় সেগুলো মধ্যপ্রাচ্য, বিশেষ করে আমেরিকা, ইউরোপ, এছাড়াও আমাদের প্রতিবেশি ভারত রয়েছে, যারা এই মাছের জন্য চেয়ে থাকে, তাদের জন্য একটা রপ্তানি করা যেতে পারে।’

চলতি মৌসুমে এক কেজি ওজনের ইলিশের গড় দাম হয়েছে এক হাজার থেকে ১২'শ টাকা।  সরকার চায়, এ দাম আরও কমুক। যাতে সব মানুষের নাগালের মধ্যে আসে ইলিশ। তারপরই রপ্তানির চিন্তা।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, ‘যদি তিন থেকে পাঁচ বছর পরও দেখি যে এটি ডাউনে যাচ্ছে না, তাহলে ধরে নেব যে এটা টেকসই, এবং আমাদের প্রক্রিয়াগুলো যদি আমরা সচল রাখতে পারি, তাহলে এটা ডাউনের দিকে যাবে না। আমরা চাই যে আমাদের দেশের প্রত্যেকেই যাতে ইলিশ খেতে পারে। এই বিষয়টা নিশ্চিত করেই আমরা এগুলো বাইরে পাঠাবো।’

২০১২ সালে পহেলা আগস্ট ইলিশসহ সব মাছ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সরকার। তবে ঐ বছরের  সেপ্টেম্বরে অন্যান্য মাছ রপ্তানি শুরু হলেও,ইলিশের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল আছে এখনও।