DBC News
নির্বাচন কেন্দ্রিক সংহিসতা দেখতে চান না ব্যবসায়ীরা

নির্বাচন কেন্দ্রিক সংহিসতা দেখতে চান না ব্যবসায়ীরা

নির্বাচনকেন্দ্রিক অস্থিরতা কিংবা কোনও ধরনের সংহিসতা আর দেখতে চান না দেশের ব্যবসায়ী ও অর্থনীতি বিশ্লেষকরা। ক্ষমতার পালাবদলে রাজনীতিবিদদের আক্রমণাত্মক বাক্য বিনিময় এবং রাজপথ দখলের নামে অর্থনৈতিক বাধা আসে এমন কর্মসূচিও দেখতে চান না তারা। তবে নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মত সহিংস পরিবেশে ফিরে যাবার সুযোগ এখন আর নেই। 

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্রিক সংহিসতার চিত্র সবারই জানা। সাংবিধানিক নিয়মেই আবারও একটি নির্বাচন কড়া নাড়ছে দরজায়। দলীয় কর্মীদের উজ্জীবিত রাখতে এবং ভোটাদের দৃষ্টি কাড়তে দেশের বড় দুই জোট নিয়েছে নানা কর্মসূচি। তবে এসব কর্মসূচিতে রাজনৈতিক নেতাদের আক্রমণাত্মক বক্তব্যে হতাশ দেশের ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা।

বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এফবিসিসিআই, এর সাবেক সহ সভাপতি মোহাম্মদ হেলালউদ্দিন বলেন, ‘২০১৩ এর অক্টোবর থেকে ২০১৪ এর জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৮৪দিন টানা হরতাল-অবরোধ হয়। এতে ১ লক্ষ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে ওই সময়ে।’

এফবিসিসিআই এর আরেক সাবেক সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল। তবে যদি এখন কোনও রকম সহিংসতা সৃষ্টি হয় তাহলে আবার পিছিয়ে পড়বে। আর যদি সবকিছু নিয়ম- শৃঙ্খলার মধ্যে থাকে, তাহলে মানুষ যাকে খুশি তাকে ভোট দিয়ে সঠিক প্রতিনিধি নির্বাচিত করবে এটাই আমাদের চাওয়া।’

চলমান উন্নয়নের ধারাকে ধরে রাখতেই আর সংহিস রাজনীতির দিকে ফিরে যেতে চায় না দেশের মানুষ;  সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেও জানা গেছে এমনটিই।

এফবিসিসিআই এর সাবেক সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ মনে করেন, কেউ যদি এখন সাধারণ মানুষের ভোগান্তির মধ্য দিয়ে জয়ী হওয়ার চেষ্টা করে, তবে সেটা বোকামী হবে।

অর্থনীতিবিদ ড. সেলিম রায়হান বলেন, ‘আমরা আশাবাদী হতে চাই যে, আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বে যারা আছেন, তারা অন্তত এই সংঘাতকে এড়িয়ে চলবেন। অর্থনীতির যে ধারা এবং একই সঙ্গে সামাজিক ধারা রয়েছে, সেটা যেন ব্যহত হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।’

সাবেক ব্যাংকার ও অর্থনীতি বিশ্লেষক মামুন রশিদ বলেন, ‘যেহেতু সরকারের হাতে বেশ কিছুটা নির্বাচন কমিশন, আইন শৃংখলা বাহিনী এবং প্রশাসন, সেহেতু সরকারকেই বড় ভূমিকা পালন করতে হবে।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এখন পর্যন্ত বড় দুই জোটের প্রস্তুতি দেখে এই নির্বাচন পর্যবেক্ষক মনে করেন, বাংলাদেশে আর নির্বাচনকালীন সহিংস পরিবেশ ফিরে আসার সুযোগ নেই।

জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদ এর চেয়ারম্যান ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলেন, ‘দশম সংসদীয় নির্বাচনের আগে ও পরে মৌলবাদী শক্তি যথেষ্ট শক্তিশালী ছিলো। তবে এখন আর আগের মত নেই। যদি কেউ সহিংসতা সৃষ্টি করতেও চায়, খুব বেশি হলে সাত থেকে দশ দিন, এর বেশি কিছু করতে পারবে না।’

অর্থনীতিকে বাধাগ্রস্ত না করে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং সেখানে সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সরকারেরই দায়িত্ব বলেও মনে করেন দেশের বিশিষ্টজনরা।