DBC News
জঙ্গিদের লক্ষ্য শেখ হাসিনা কেন?

জঙ্গিদের লক্ষ্য শেখ হাসিনা কেন?

রাজনৈতিকভাবে নিরাপদে থাকার উদ্দেশ্যে তৎকালীন ক্ষমতাসীনরা বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ধর্মীয় রাজনীতির উত্থানে শেখ হাসিনাকে বড় বাধা মনে করে জঙ্গিরা। এই দুটি ক্ষেত্রে স্বার্থের মিল ঘটায় জঙ্গিদের ব্যবহার করে ক্ষমতাসীনরা। ফলে, গ্রেনেড হামলা চালিয়ে শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

১৯৭৫ সালে ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর আত্মস্বীকৃত খুনিরা গঠন করে ফ্রিডম পার্টি। এই ফ্রিডম পার্টির সঙ্গে ভারতের উগ্রপন্থী সংগঠন উলফার সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরবর্তীতে উলফা আর ফ্রিডম পার্টি মিলে বাংলাদেশকে নানাভাবে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে। তাদের মূল টার্গেট ছিলো শেখ হাসিনা।

১৯৯২ সালে হরকাতুল জিহাদের আত্মপ্রকাশের পর বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রবাদী সংগঠনের তৎপরতা শুরু হয়।

মুফতি হান্নানের নেতৃত্বে প্রথমে ২০০০ সালের জুলাই মাসে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বোমা মেরে শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। কোটালী পাড়ায় ব্যর্থ হওয়ার পরই খুলনা এবং তারপরে সিলেটে শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করে জঙ্গিরা। একুশে আগস্টসহ চারবার শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করে জঙ্গিরা।

শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য জঙ্গিদের ব্যবহার করে আওয়ামী বিরোধী শক্তি দীর্ঘ মেয়াদী রাজনৈতিক সুবিধা নেয়ার পরিকল্পনা করেছিলো বলে মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক আব্দুর রশিদ বলেন, 'বিরোধী শক্তির সঙ্গে জঙ্গিদের পর্দার অন্তরালে একটি যোগাযোগ আছে। তাদেরই রাজনীতিকে প্রসারিত করার জন্যই এই শক্তি ব্যবহার করা হয়। ২১শে আগস্টে শেখ হাসিনা যে হামলার শিকার হয়েছেন, সেখানে রাষ্ট্র, রাষ্ট্রযন্ত্র, রাজনীতি এবং জঙ্গি সবাই একত্রিত হয়ে হামলাটা পরিচালনা করেছেন। এখানেতো আর জননিরাপত্তার কোনও জায়গা নাই। এমন কার্মকান্ডে রাষ্ট্র আসলে বিলীন হয়ে যায়।’

ধর্মীয় উগ্রপন্থী রাজত্ব কায়েম করার জন্যই বার বার শেখ হাসিনাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয় বলে মনে করেন শিক্ষাবিদ আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, '১৫ই আগস্ট এবং ২১শে আগস্ট, এই ঘটনাগুলোর সঙ্গে একটা যোগসূত্র আছে। এই যে বারবার শেখ হাসিনার ওপর হামলা হচ্ছে এবং বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা এবং মুক্তচিন্তার মানুষের ওপর আঘাত আসছে, এর কারণ হলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী যে শক্তি, এখনও তারা নিজেদেরকে সংগঠিত রেখেছে এবং সেই কাজগুলো করে চলেছে।'

১৯৮১ সালে নির্বাসিত জীবন থেকে দেশে ফেরার পর মোট ১৯ বার শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। এরমধ্যে ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলা সবচেয়ে ভয়াবহ। যে হামলায় ২৪ জন প্রাণ হারান। আর অল্পের জন্য বেঁচে যান শেখ হাসিনা।

আরও পড়ুন

ব্যারিস্টার মঈনুলকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান

সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে 'চরিত্রহীন' বলায় ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনেকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন আরও ১৪ জন বিশিষ্ট নাগরিক। শুক...

১৭৭ রোহিঙ্গা পুনর্বাসিত, দাবি মিয়ানমারের

১৭৭ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের যে দাবি করেছে মিয়ানমার, সে বিষয়ে বাংলাদেশকে কিছুই জানানো হয়নি। এমনটি জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। শুক্রবার টেলিফোনে...

'সাত দফা দাবির একটিও গ্রহণযোগ্য নয়'

'বিএনপি দুর্দশাগ্রস্থ দল। একে উদ্ধারের দায়িত্ব নিয়েছেন ডক্টর কামাল হোসেন'- শুক্রবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এ কথা বলেন। এসময় তিনি আর...

'চমক নিয়ে আসছে জাতীয় পার্টি'

জোট-মহাজোটের ভাঙা-গড়ার মধ্যে নতুন চমক নিয়ে আসছে জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন জাতীয় সম্মিলিত জোটে। এমনটাই বললেন পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার। আগামীকালের মহাস...

রাজধানীতে চলছে রমরমা মাদক ব্যবসা

জোরেশোরে মাদক বিরোধী অভিযান চললেও, রাজধানীর চিহ্নিত কয়েকটি স্পটে বন্ধ হয়নি মাদক ব্যবসা। একইসঙ্গে দিনে দুপুরে চলছে মাদক সেবন। এই পরিস্থিতির কথা স্বীকার করে, পুলি...

দু'ঘন্টার জিজ্ঞাসায় অভিযোগ অস্বীকার করলেন লতিফুর

সরকারি জমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগে ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানকে দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদক। আজ সকালে, সেগুনবাগিচায় দুদকের...