DBC News
২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়; বাবরের মৃত্যুদণ্ড, তারেকের যাবজ্জীবন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়; বাবরের মৃত্যুদণ্ড, তারেকের যাবজ্জীবন

বহুল আলোচিত ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। বাকী ১১জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে, বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দীন এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে, বুধবার সকাল পোনে ৭ টার দিকে কাশিমপুর ১, ২ ও হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে গ্রেনেড হামলা মামলার অন্যতম আসামি সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম পিন্টুসহ অন্যান্য আসামিদের কড়া নিরাপত্তায় ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।   

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, রাজনীতি মানে কি বিরোধী দলের ওপর পৈশাচিক আক্রমন? এই রাজনীতি এ দেশের জনগণ চায় না। সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে শত বিরোধ থাকবে, তাই বলে নেতৃত্বশূণ্য করার চেষ্টা চালানো হবে? রাজনীতিতে এমন ধারা চালূ থাকলে মানুষ রাজনীতিবিমুখ হয়ে পড়বে।

আদালত আরও বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ক্ষমতায় বিরোধী যে দলই থাকবে, বিরোধী দলের প্রতি তাদের উদারনীতি প্রয়োগের মাধ্যমে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত করার প্রচেষ্টা থাকতে হবে।

এ দেশ আর এমন হামলার পুনরাবৃত্তি চান না- এমন মন্তব্য করে বিচারক শাহেদ নূর উদ্দীন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ওপর হামলা বা রমনা বটমূলে হামলার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি চায় না। আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে নৃশংস হামলার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো সম্ভব।

আদালত বলেন, এ আদালত চিকিৎসক প্রাণ গোপাল দত্ত, আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, সাহারা খাতুন, বাহাউদ্দিন নাছিমের জবানবন্দি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। সাক্ষী নীলা চৌধুরী গ্রেনেড হামলায় আহত হয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। আদালত বলেন, ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ফলে তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডান কান গুরুতর জখম হয়।

রায়ে আদালত বলেছেন, এই ঘটনার সঙ্গে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা জড়িত ছিলেন, হামলার সঙ্গে রাষ্ট্রযন্ত্র জড়িত ছিলো। হাওয়া ভবন থেকেই হামলার নীলনকশা চূড়ান্ত করা হয়।‘   

রায় পর্যালোচনা করা হবে জানিয়ে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেছেন, ‘এ রায়ের মধ্যে দিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।'

অন্যদিকে, রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আসামিপক্ষের আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া জানান, 'তারেক রহমান দেশে ফিরলে এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন করা হবে।' এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, 'সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, হারিছ চৌধুরী, আর আব্দুস সালাম পিন্টুকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। এছাড়া মুফতি হান্নানকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করে, হামলার সঙ্গে বাবর ও তারেককে জড়িয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট, মুফতি হান্নানের নেতৃত্বে ১২ জন জঙ্গি আওয়ামী লীগের সমাবেশে হামলা করে। এই হামলার জন্য ৫২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। যাদের মধ্যে অন্য মামলায় তিন আসামির ফাঁসিও কার্যকর হয়েছে। বাকী ৪৯ জনের মধ্যে ১৮ জনই পলাতক, অন্যরা সবাই কারাগারে বন্দি। পলাতক আসামিদের মধ্যে আছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

আসামিদের মধ্যে বর্তমানে গ্রেপ্তার আছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, ডিজিএফআই-এর সাবেক মহাপরিচালক রেজ্জাকুল হায়দার, এনএসআই-এর সাবেক মহাপরিচালক আবদুর রহিম, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ৩১ আসামি।

এদিকে, আদালত প্রাঙ্গণসহ রাজধানী জুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, '২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়কে ঘিরে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। রায়কে কেন্দ্র করে অরাজকতার চেষ্টা করা হলে, জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না, জনগণকে নিরাপত্তা দিতে আমাদের যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে। কেউ নাশকতা চালানোর চেষ্টা করলে তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে এবং আইনের আওতায় আনা হবে।' 



এর আগে, এই রায়কে কেন্দ্র করে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। ১৪ বছর আগের এই হামলায় আহতদের অনেকেই সেখানে হাজির হয়েছেন। এ হামলায় জড়িতদের সর্বোচ্চ সাজা দাবি করে তারা বলেন, নাশকতা ঠেকাতে সজাগ রয়েছেন, দলীয় নেতাকর্মীরা। একইসঙ্গে আদালত এলাকায় মিছিল করেছেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন জানান, ন্যায় বিচারের আশা করছেন তারা।

আরও পড়ুন

ব্যারিস্টার মঈনুলকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান

সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে 'চরিত্রহীন' বলায় ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনেকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন আরও ১৪ জন বিশিষ্ট নাগরিক। শুক...

১৭৭ রোহিঙ্গা পুনর্বাসিত, দাবি মিয়ানমারের

১৭৭ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের যে দাবি করেছে মিয়ানমার, সে বিষয়ে বাংলাদেশকে কিছুই জানানো হয়নি। এমনটি জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। শুক্রবার টেলিফোনে...

রাজধানীতে চলছে রমরমা মাদক ব্যবসা

জোরেশোরে মাদক বিরোধী অভিযান চললেও, রাজধানীর চিহ্নিত কয়েকটি স্পটে বন্ধ হয়নি মাদক ব্যবসা। একইসঙ্গে দিনে দুপুরে চলছে মাদক সেবন। এই পরিস্থিতির কথা স্বীকার করে, পুলি...

দু'ঘন্টার জিজ্ঞাসায় অভিযোগ অস্বীকার করলেন লতিফুর

সরকারি জমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগে ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানকে দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদক। আজ সকালে, সেগুনবাগিচায় দুদকের...

সম্প্রচার ও গণমাধ্যম কর্মী আইনকে স্বাগত

মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন হওয়া সম্প্রচার ও গণমাধ্যম কর্মী আইনকে স্বাগত জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল এবং টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি আইন প্রণয়নে ভূমিক...

'সম্প্রচার আইন-২০১৮' এর নীতিগত অনুমোদন

সাত সদস্যের একটি সম্প্রচার কমিশন গঠনের প্রস্তাব রেখে ‘সম্প্রচার আইন ২০১৮’ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী...