DBC News
এফডিসি বিমুখ চলচ্চিত্র নির্মাতারা

এফডিসি বিমুখ চলচ্চিত্র নির্মাতারা

ডিজিটাল কমপ্লেক্স নির্মাণসহ নানা উদ্যোগের পরেও, এফডিসিতে ফিরে আসেনি কর্মচাঞ্চল্য। সবশেষ ষাট কোটি টাকার যন্ত্রপাতি, ক্যামেরা এবং লাইট কেনা হয়েছে। তবু এফডিসিতে শ্যুটিং করতে অনীহা চলচ্চিত্র নির্মাতাদের। তারা বলছেন, অসহযোগিতা আর অব্যবস্থাপনার কারণেই সেখানে কাজ করতে চান না।

এক সময় যে এফডিসি প্রতিদিন কর্মচঞ্চল থাকতো, তা এখন প্রায় বিরানভূমি। চলচ্চিত্র নির্মাণ কমে যাওয়ায় কলাকুশলীদের কাজও কমে গেছে। তবুও মায়ার টানে এখনও বিকেলের আলো কমে এলে সমিতিগুলোতে আড্ডা জমে ওঠে। সেখানে আসা চলচ্চিত্র নির্মাতারা জানান, 'কাজ আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে।' এফডিসির কিছু প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অনেকেই কিছুদিন শুটিং করার পর আর কাজ করতে চায় না।

এফডিসির সাতটি ফ্লোরের বেশিরভাগই এখন খালি পরে থাকে। যেখানে নিয়মিত চলচ্চিত্রের শ্যুটিং হতো সেই ফ্লোরগুলোতে আলো জ্বলে টিভি চ্যানেলগুলির বিভিন্ন অনুষ্ঠান আর বিজ্ঞাপন নির্মাণকে কেন্দ্র করে।

নির্মাতারা জানালেন, 'দুর্নীতি, প্রশাসনিক অসহযোগিতা আর কারিগরি অদক্ষতার কারণেই এফডিসি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার জানান, 'এফডিসিতে কেউ শুটিং করতে গেলে, প্রায়ই দেখা যায় কিছু অযোক্তিক বিল আমাদের ওপর চাপিয়ে দেয়। এখানে কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা আছে, তারা সব ব্যাপারে প্রযোজক ও পরিচালকদের কাজ করার ব্যাপারে অসহযোগিতা করে থাকে।'

চিত্রনায়ক আলমগীর বলেন, 'এফডিসিকে ডিজিটালাইজড করার জন্য ২ বছর আগে কিছু মেশিন আনা হলেও, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই মেশিনগুলো এখনও ব্যবহার উপযোগী করা হয়নি।'

চলচ্চিত্র পরিচালক দেবাশিষ বিশ্বাস বলেন, 'এফডিসিতে কিছু কাঠামোগত ও গঠনতান্ত্রিক সমস্যা আছে। কিন্তু এই সমস্যাগুলো এখন খুব বড় আকার ধারণ করেছে।'

গত অর্থ বছরে ষাট কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল বিএফডিসির উন্নয়ন খাতে। সেই টাকা থেকে ঊনষাট কোটি টাকায় কেনা হয়েছে, আধুনিক যন্ত্রপাতি, ক্যামেরা আর লাইট। সেইসঙ্গে এফডিসির ৯৪ কাঠা জমি ব্যবহার করে চলছে, আধুনিক কমপ্লেক্স তৈরির পরিকল্পনা।

এফডিসির দৈন্যদশা ও নির্মাতাদের মুখ ফিরিয়ে নেয়ার পেছনে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথা জানান, এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আমির হোসেন। তিনি জানান, 'এফডিসিতে যে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি আমদানি করা হয়েছে, সেখানে দক্ষ লোকের অভাব রয়েছে। যেসব দক্ষ লোক ছিলেন, তাদের বেশিরভাগই চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেছে।'

এতোকিছুর মধ্যেও দেশে বেশ কিছু ভালো চলচ্চিত্র তৈরি হচ্ছে- আর সেটাই সুদিনের স্বপ্ন দেখায়। সেই আশাতেই দিন কাটছে শিল্পী ও কলাকুশলীদের।

চিত্রনায়িকা সোহানা সাবা বলেন, 'আমরা এখনও আশাবাদী যে পরিবর্তন আসবেই। এফডিসিতে যে কাজ হচ্ছে না এমন কিন্তু না, এখনও অনেক কাজ হচ্ছে, তাই আমি আশা ছাড়িনি।'

ধ্বংসের মুখে থাকা আমাদের চলচ্চিত্রশিল্পের এই ক্ষেত্রভূমিকে বাঁচিয়ে তুলতে, সঠিক পরিকল্পনা আর সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক পেশাদার সদিচ্ছা এখন সময়ের দাবি।