DBC News
'এ মাসেই রোহিঙ্গাদের জন্য ভাষানচর পুনর্বাসন প্রকল্পের উদ্বোধন'

'এ মাসেই রোহিঙ্গাদের জন্য ভাষানচর পুনর্বাসন প্রকল্পের উদ্বোধন'

রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের জন্য প্রায় প্রস্তুত নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা দ্বীপ ভাষানচর। বেড়িবাঁধ, বাসস্থান, সাইক্লোন শেল্টার, সড়ক, লাইট হাউজসহ প্রকল্পের প্রায় ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। চলতি মাসেই এই পুনর্বাসন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নোয়াখালীর হাতিয়ার কোল ঘেষে ভেসে ওঠা দ্বীপ ভাষানচর। ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই দ্বীপটিতে রোহিঙ্গা পুনর্বাসনের জন্য চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

প্রতিদিন প্রায় ১৫ হাজার শ্রমিক কাজ করছে এখানে। বসতবাড়ি, খেলার মাঠ, পুকুর, মসজিদ, হাসপাতাল, সড়ক, সাইক্লোন শেল্টার, সোলার সিস্টেমসহ দ্বীপটিকে বসবাসযোগ্য করতে সব ধরনের স্থাপনা নির্মাণ চলছে। সেখানে কর্মরত শ্রমিকরা জানায়, কাজ খুব দ্রুত গতিতে চলছে, খুব শিগগিরই কাজ শেষ হয়ে যাবে। একটা বাড়িতে ১৬টা পরিবার এবং একটি রুমে ৪ জন করে থাকতে পারবে। বন্যা, জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা পেতে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে।

এক লাখ রোহিঙ্গার বসবাসের জন্য সব ধরনের কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে, জেলা প্রশাসন। নোয়াখালী জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস বলেন, রোহিঙ্গাদের নাগরিক সুবিধা দেয়ার জন্য যা যা করা প্রয়োজন তার জন্য সবকিছুই আমরা এই আশ্রয়স্থলে করেছি। আমরা প্রস্তুত আছি, সরকার সিদ্ধান্ত নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা তাদের পুনর্বাসন কাজ শুরু করবো।'

ভাষানচর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হওয়ায়, রোহিঙ্গারা নোয়াখালীবাসীর জীবনধারায় প্রভাব ফেলতে পারবেনা বলে জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদৌস জানান, 'শুধু ১ লাখ না ১০ লাখ রোহিঙ্গা হলেও, আমরা তাদের পুনর্বাসন করতে পারবো। কক্সবাজারে রোহিঙ্গারা থাকার ফলে জনজীবনে যে প্রভাব পড়েছে, আমি মনে করি নোয়াখালীতে এর কোন প্রভাব পড়বে না।'

গত বছরের ২৫শে আগস্ট রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পূর্ব পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো হয়। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭ লাখ মানুষ। আর তার আগে কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে আরও তিন লাখ রোহিঙ্গা।

সব মিলে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। জানুয়ারিতে সম্পাদিত ঢাকা-নেপিদো প্রত্যাবাসন চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরিয়ে নেয়া শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। অন্যদিকে, জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন সংস্থা ধারাবাহিকভাবে বলে আসছে, রাখাইন এখনও রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ নয়।