DBC News
'পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধে ড. ইউনূসের হাত ছিলো'

'পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধে ড. ইউনূসের হাত ছিলো'

'যারা পদ্মা সেতুর কাজ বন্ধ করতে চেয়েছিলো, তারা আসলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চেয়েছিলো, তারা দেশের উন্নয়নের পথে বাধা। দেশের মানুষের জীবন জীবিকার মান উন্নয়ন করেই তাদের উপযুক্ত জবাব দেবে সরকার।' আজ রবিবার সকালে মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় আয়োজিত সুধী সমাবেশে এ মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'পদ্মা সেতুর জন্য বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধের পেছনে ড. মোহাম্মদ ইউনূসের হাত ছিলো'। তিনি বলেন, 'বিশ্বব্যাংকও পদ্মা সেতুর দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারেনি।'

এর আগে, মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করতে, মুন্সীগঞ্জের মাওয়া, শরীয়তপুরের জাজিরা, ও মাদারিপুরের শীবচর এলাকায় যান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় পদ্মাসেতুর নামফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া সেতুতে রেল সংযোগসহ বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে সুধী সমাবেশে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন 'নিজস্ব অর্থায়নে এ সেতু তৈরি করতে গিয়ে অনেক দুর্নাম সইতে হয়েছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে অনেক যড়ষন্ত্র হয়েছে। কিন্তু দুর্নীতি হয়নি বলেই বিশ্বব্যাংকও তা প্রমাণ করতে পারেনি; কানাডার আদালতে যা প্রমাণিত হয়েছে।'

প্রধানমন্ত্রী ড. ইউনূসের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, 'গরীব মানুষকে সহযোগিতার কথা বলে, গ্রামীনফোনের লাইসেন্স নিয়েছিলেন, ড. ইউনূস। একই সঙ্গে আইনের তোয়াক্কা না করে ওই ব্যাংকের এমডি পদেও ছিলেন তিনি।' প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, 'আমাদের দেশে কিছু মানুষ আছে, যারা দেশের মানুষের স্বার্থ না দেখে, ব্যক্তিস্বার্থ দেখেন। গরীবের সুদের টাকায় যারা বড়লোক হয় সেই সুদখোররা কখনও দেশপ্রেমিক হতে পারে না'-বলেন, শেখ হাসিনা। 

সরকারের ধারাবাহিক অগ্রযাত্রার চিত্র তুলে ধরে রাষ্ট্রপ্রধান শেখ হাসিনা বলেন, 'উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে মানুষের ভাগ্যন্নয়ন করাই তার জীবনের লক্ষ্য।'  বাংলাদশকে আর কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রবিবারের কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী জাজিরা পয়েন্টে সেতুর কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন ছাড়াও শিবচরে যাবেন এবং কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটে জনসমাবেশে ভাষণ দেবেন।

প্রসঙ্গত, পদ্মা ব্রিজ রেল লিংক কনস্ট্রাকশন প্রজেক্টের প্রথম পর্যায়ের কাজ জাজিরা ও শিবচর হয়ে মাওয়া এবং ফরিদপুরের ভাঙার মধ্যে রেল সংযোগ স্থাপন হরা হবে। এই বহুমুখী সেতুর মাধ্যমে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, নড়াইল ও যশোরের মধ্যে বৃহত্তর সংযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে।

চীন সরকারের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ ব্যাপারে চীন এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে ২৬৬৭ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন ডলারের একটি ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এখন পর্যন্ত শতকরা ৬০ ভাগ পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এ সেতু নির্মিত হলে, ১ দশমিক ২ শতাংশ অতিরিক্ত প্রবৃদ্ধি হবে।

এ প্রকল্পের আওতায় ২৩ কিলোমিটার এলিভেটেড সেতুপথ নির্মিত হবে। এ সেতুপথে একাধিক লিফটসহ দু'টি প্লাটফর্ম, একটি মেইন লাইন ও দুটি লুপ লাইন নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।