DBC News
এলপিজি সিলিন্ডারের অসতর্ক ব্যবহারই বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি

এলপিজি সিলিন্ডারের অসতর্ক ব্যবহারই বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি

দেশে এখন এলপিজি সিলিন্ডার রয়েছে প্রায় দেড় কোটি। ব্যবহারকারীদের বেশিরভাগই চুলা জ্বালান অসতর্কভাবে। ফলে ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে বড় বড় দুর্ঘটনার।  এলপিজি বোতলীকরন ও বিপণন ব্যবসায়ীরা বলছেন, সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নজরদারি আরো বাড়াতে হবে।

শহরের প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট আর গ্রামে কাঠ পোড়ানো জ্বালানির বিকল্প হিসেবে দিন দিন বাড়ছে এলপি গ্যাসের ব্যাবহার। মাঝে মাঝেই খবর আসে এলপিজি সিলিন্ডার দুর্ঘটনার।

প্রায় ৬০টি কোম্পানি অনুমোদন পেলেও ১৫টির বেশি প্রতিষ্ঠান সারাদেশ এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করছে। বসুন্ধরা, ওমেরাসহ কয়েকটি কোম্পানি নিজেরাই সিলিন্ডার তৈরি করে। শুধু ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এলপিজি সিলিন্ডার আমদানি হয়েছে ৩৯ লাখ ৬৪ হাজার ৭২৮টি। আর দেশে তৈরি হয়েছে, ১১ লাখ ৪ হাজার ৩৩৫ সিলিন্ডার। গত পাঁচ বছরে বোতলীকরণ হয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ সিলিন্ডার। নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এসব সিলিন্ডার অনুমোদন ও ব্যবহার বিধি প্রচার করে বিষ্ফোরক পরিদপ্তর।

এ প্রসঙ্গে প্রধান বিষ্ফোরক পরিদর্শক সামসুল আলম জানান, 'কোম্পানি গুলোকে আমরা বাধ্য করছি সচেতনতা বৃদ্ধির প্রচারণা চালানোর জন্য। ব্যবহারবিধি নির্দেশিত সিলিন্ডাত বাজারজাত করার জন্য।' বিষ্ফোরক বিভাগ যদি এ কাজগুলো করতে চায় তবে পুলিশ বাহিনীর মত বিশাল বাহিনী তৈরী করতে হবে বলে মত ব্যক্ত করেন তিনি। 

তবে, বাস্তবে বেশিরভাগ ব্যবহারকারী সচেতন নন। রাজধানীর মহানগরের রেস্তোরাঁগুলোয় এলপিজি সিল্ডারগুলো যেন চারপাশ থেকে চুলাকে চেপে ধরেছে। চুলার তাপে কোনোভাবে সিলিন্ডারের ভাল্ব রেগুলেটর গরম হয়ে গেল ঘটতে পারে ভয়ানক দুর্ঘটনা। ব্যবহারের নিয়ম অনেক ব্যবহারকারীই জানেন কিন্তু মানেন না। 

তবে এলপিজি বোতলীকরণ ও  বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বিষ্ফোরক পরিদপ্তরকে আরো শক্তিশালী করা দরকার। ওমেরা সিলিন্ডার লিমিটেডের সিইও শামসুল হক আহমেদ বলেন, 'মার্কেট প্রসারিত হচ্ছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা বাড়াতে হবে।'

জেলা বা উপজেলায় পরিদপ্তরের কোনো পরিদর্শন কর্মকর্তা নেই। তবু পাশের দেশের তুলনায় বাংলাদেশে বিষ্ফোরক পরিদপ্তরকে শক্তিশালী বলে মনে করেন প্রধান বিষ্ফোরক পরিদর্শক।