DBC News
দেশে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েই চলছে

দেশে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েই চলছে

গত অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও দেশে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে। বছর শেষে এর পরিমান ছাড়িয়ে যাবে প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার। এ হিসেব বাংলাদেশ ব্যাংকের। বড় অবকাঠামো প্রকল্পের মূলধনি সরঞ্জাম আমদানির কারণে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে আমদানির পেছনে মুদ্রা পাচারের আশঙ্কাও করছে তারা।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে ৮৮২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। একই সময়ে রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৬৭১ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এ হিসাবে পণ্য বাণিজ্যে সার্বিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১০ কোটি ৭০ লাখ ডলার। যা গত বছরের এই সময়ের চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ বেশি। 

বাংলাদেশ ব্যাংক মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, 'বাংলাদেশে এক্সপোর্টের চাইতে ইম্পোর্ট বেশী করতে হয়। সে ইম্পোর্ট সবক্ষেত্রে খারাপ নয়। মেশিন নির্ভর ইম্পোর্ট আমরা করি।' 

নির্বাচনী বছর হওয়ায় এ বছর অনেক প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সেসব প্রকল্পের জন্য বিদেশী সরঞ্জাম আনতে যেয়ে গতবারের তুলনায় ২৫ শতাংশ আমদানি বেড়েছে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট, বিআইবিএম এর অধ্যাপক ড. প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জী বলেন, 'সরকার অনেক বড় বড় প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে। প্রজেক্ট বড় হলে ইম্পোর্ট বেশি হবে। এটা এখন বেশি মনে হলেও আগামী দিন গুলোতে এটা সারপ্লাস হিসেবে দেখা দেবে।' 

মুদ্রা বাজার টেকসই অবস্থায় নেই, অধিক আমদানী মুদ্রাবাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলছে বলে জানান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট, পিআরআই এর নির্বাহী পরিচালক আহসান মনসুর বলেন। তিনি বলেন, 'সরকার এ বছর ম্যানেজ করতে পেরেছে তবে আগামী বছর কিন্তু আমদানি প্রবৃত্তি কমিয়ে আনতেই হবে।'

স্বাভাবিকভাবে আমদানি বৃদ্ধিকে অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বলে ধরা হলেও ভোটের বছরে আমদানির নামে অর্থ পাচার হচ্ছে কি না- সে বিষয়েও সরকারকে সতর্ক থাকার পরামর্শ বিশ্লেষকদের । 

আহসান মনসুর বলেন, 'অনেক ক্ষেত্রে এলসি খোলা হয়েছে কিন্তু মাল আসেনি। দেখা যায়, যে কন্টেইনার এসেছে তবে সেগুলো খালি অথবা কন্টেইনারের ভেতরে ইট-পাটকেল ছাড়া কিছুই নেই। এটা টাকা পাচারের একটা লক্ষণ।'

বাংলাদেশ রপ্তানিকারক সমিতি'র জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি, মোহাম্মদ হাতেম বলেন, 'অমি মনে করি সরকারের উচিত যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত, বাংলাদেশে তাদের সকল প্রকার ব্যাবসা বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়া উচিৎ।'

তবে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি বাড়লেও সেবায় ঘাটতি কিছুটা কমে ৩৯ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৭৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার ।