DBC News
'শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণকে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে'

'শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণকে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে'

শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণকে ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানালেন, ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সন্ধ্যায়, রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আয়োজিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে এ আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'বেগম জিয়া আমাকে বলেছেন, এই দেশের মানুষ মুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চায়। জাতি কোনও প্রতিহিংসা চায় না। সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।‘

মির্জা ফখরুল বলেন, 'দেশে গণতন্ত্র থাকবে কী না সেটি এখন বড় প্রশ্ন। সামনে আরও ভয়াবহ সংকট আসছে। অামাদেরকে এখন শপথ নিতে হবে, গণতন্ত্র রক্ষার  আন্দোলনকে সফল করতে হবে।'

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, ‘এই স্বৈরাচারী সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে জোর করে কারাগারে আটকে রেখেছে। সেখানে তাকে ছোট্ট একটা ঘরে তাকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। পাকিস্তান আমলে এমন কি বৃটিশ আমলেও কাউকে এভাবে বন্দি করে রাখার নজির নেই।‘

তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপির একজনও নেই যাদের নামে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়নি।' খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দিদের মুক্তি দিয়ে কাজ করার সুযোগ দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচন কমিশনকে আরও নিরপেক্ষ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সবার জন্য লেবেলপ্লেইং ফিল্ড তৈরি করতে হবে।‘

ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্যে দিয়েই এই সরকারের পতন হবে মন্তব্য করে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনকে সফল করার অঙ্গিকার করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সমাবেশে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদূদ আহমদ বলেন, 'এই সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব নয়।'

২০১৪ সালে বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচন বয়কট করেছিলেন বলেই ওই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। এবারও তাকে ছাড়া নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না বলে মন্তব্য করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ।

সমাবেশে জেএসডি নেতা আ স ম রব বলেন, 'ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি না মানলে নির্বাচন হবে না।'

এর আগে, শুক্রবার বেলা দুইটার দিকে সমাবেশ শুরু হয়। তবে অসুস্থতার জন্য যোগ দিতে পারেননি, গণফোরাম সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ডক্টর কামাল হোসেন। শারীরিক অসুস্থতার জন্য ড. কামাল হোসেন রাজশাহীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে অংশ নিতে পারছেন না বলে জানায় গণফোরাম। তবে, গণফোরামের পক্ষ থেকে সমাবেশে অংশ নিতে দলের অন্য নেতারা রাজশাহীতে গেছেন। 

নগরীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে শুরু হওয়া এই সমাবেশে যোগ দেন জোটের নেতাকর্মীরা। সমাবেশকে ঘিরে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ব্যানার-ফ্যস্টুনে ভরে যায় মাদ্রাসা মাঠ। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমাবেশ স্থলে বিপুল সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োগ করা হয়। সমাবেশে জোটের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।

শুরুতে ঢাকা থেকে রাজশাহী অভিমুখে রোডমার্চ শেষে সমাবেশ করার কথা থাকলেও, রোডমার্চ স্থগিত করে শুধু সমাবেশই করে রাজনৈতিক জোটটি। শারীরিক অসুস্থতার জন্য ড. কামাল হোসেন রাজশাহীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে অংশ নিতে পারছেন না বলে জানায় গণফোরাম। তবে, গণফোরামের পক্ষ থেকে সমাবেশে অংশ নেন দলের অন্য নেতারা। 

গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য আ ও ম শফিকুল্লাহ এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, 'শারীরিক অসুস্থতার জন্য দলের সভাপতি ড. কামাল হোসেন রাজশাহী সমাবেশে অংশ নিতে পারছেন না। গণফোরাম থেকে সুব্রত চৌধুরী ও মোস্তফা মহসিন মন্টুসহ দলের অন্য নেতারা সেখানে গেছেন।'

এর আগে, রাজশাহীতে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে গত ২২শে অক্টোবর নগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে রাজশাহী মহানগর পুলিশের কাছে আবেদন করেন। পরে বিএনপি নেতারা কয়েকবার রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তারের সঙ্গে দেখা করেন। কিন্তু অনুমতি মিলছিলো না। সর্বশেষ গত বুধবার দুপুরে, বুলবুল ও মিলন আরএমপি কমিশনারের কাছে যান। ওই দিন বিকেলে, পুলিশ নগরীর গণকপাড়া মোড়ে সমাবেশের অনুমতি দেয়ার কথা জানালেও,পরে মাদ্রাসা মাঠে অনুমতি দেয়।

আরএমপির মুখপাত্র জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার ইফতেখায়ের আলম সাংবাদিকদের জানান, সমাবেশের জন্য ঐক্যফ্রন্টের প্রথম পছন্দ ছিল মাদ্রাসা মাঠ। বিকল্প হিসেবে তারা সাহেববাজার, গণকপাড়া মোড় ও মনি চত্বরের নাম লিখেছিল। কিছু শর্তে গণকপাড়া মোড়ে তাদের সমাবেশের জন্য অনুমতি দেয়া হয়। এরপর রাত পৌনে ৯টায় তিনি মাদ্রাসা মাঠেই তাদের সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়।

সমাবেশ উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার দুপুরে, রাজশাহী মহানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যফ্রন্টের রাজশাহী বিভাগের সমন্বয়ক বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু বলেন, সমাবেশের মাত্র ১৪ ঘণ্টা আগে ১২টি শর্তে আমরা সমাবেশ করার লিখিত অনুমতি পেলাম। এই সমাবেশ সফল হবে এবং এখান থেকেই সুষ্ঠু নির্বাচনের গণআন্দোলন শুরু হবে।

তিনি বলেন, 'সমাবেশ থেকে এমন কর্মসূচি আসবে যা দেশের রাজনীতির দৃশ্যপট পাল্টে দেবে। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া কারাগার থেকে মুক্ত হবেন। নির্বাচনের তফসিল ইস্যুতে মিনু বলেন, সরকারের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন দেশের জনগণ মানে না। জনগণকে নিয়ে প্রয়োজনে আবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষা করা হবে।'

ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীদের পুলিশ গ্রেপ্তার করতে শুরু করেছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন মিজানুর রহমান মিনু। 

আরও পড়ুন

অকেজো সিগনাল, অসহায় ট্রাফিক!

হাতের ইশারায় চলছে ট্রাফিক সিগন্যাল। গাড়ি থামানো গেলেও, পথচারীকে থামাতে পারছে না পুলিশ। ফুটওভার ব্রিজের নিচ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে মানুষ পার হচ্ছে ব্যস্ত সড়ক। আর এখন পর...

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরখাস্ত হওয়া হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আবজাল দম্পতি লাপাত্তা

দেশে-বিদেশে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরখাস্ত হওয়া হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আবজাল হোসেন ও তার স্ত্রী রুবিনা খানম এখন লাপাত্তা। বিদেশযাত্র...

উন্নয়নে যেন মানুষের ক্ষতি না হয়-প্রধানমন্ত্রী

উন্নয়ন করতে গিয়ে গরীব মানুষের জীবন ও জীবিকা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্টদের নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বৃহস্পতিবার স...

ডাকসুর পর চাকসু নির্বাচনের সিদ্ধান্ত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-চাকসু নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বুধাবার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট ও প্রক্টোরিয়...