DBC News
দরপতন ঠেকাতে কেপিসিএল'র লেনদেন স্থগিত

দরপতন ঠেকাতে কেপিসিএল'র লেনদেন স্থগিত

আশঙ্কাজনক হারে দরপতন ঠেকাতে খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ার লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ।  প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা'র বিপুল পরিমাণ শেয়ার পাবলিক মার্কেটে বিক্রির ঘোষণা বাজারকে নেতিবাচক করছে- এমন অভিযোগ ডিএসই কর্তৃপক্ষের। বাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে ব্লক মার্কেটে নির্ধারিত ক্রেতার কাছে এসব শেয়ার বিক্রির পরামর্শ সবার।  

২০১০ সালে পুঁজিবাজারে আসে খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড। গেল আট বছর ৪০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যেই ওঠানামা করে বিদ্যুত খাতের এই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর।

কিন্তু চলতি বছরের অক্টোবরে ১৪০ টাকায় উঠে যায় কেপিসিএল। কিন্তু নভেম্বরেই শুরু হয় দরপতন। ৯০ টাকার কাছাকাছি চলে আসে শেয়ারদর।আশঙ্কাজনক এই পতন ঠেকাতে গেল বুধবার খুলনা পাওয়ারের লেনদেন স্থগিত করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক পরিচালক খুজিস্তা নূর-ই নাহরীন বলেন, 'এই শেয়ারটির গত মে মাসে দাম ছিলো ৭০ টাকা, কিন্তু হঠাৎ করেই কয়েক কার্যদিবসে এর দাম হয়ে গেছে ১৪০ টাকা। এরই মধ্যে মালি্কপক্ষ প্রায় ১ কোটি শেয়ার বিক্রি করেছে, যা বাজারে একটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই আমরা বের করতে চাই আসলে কে এই শেয়ারগুলোর দাম এভাবে উঠিয়েছিল।'

ডিএসই বলছে-কেপিসিএল উদ্যোক্তার বিপুল পরিমাণ শেয়ার পাবলিক মার্কেটে বিক্রি শুরু হওয়ায় পুরো বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নির্ধারিত ক্রেতার কাছে ব্লক মার্কেটে শেয়ার বিক্রি হলে এমনটা হতো না।

ডিএসই'র পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন জানান, এই শেয়ারটি বাজারে যদি বিক্রি হতে থাকে, তাহলে বাজারে নেতিবাচক একটা প্রভাব পড়বে এবং সেটি বাজারকে একটি ভুল সংকেত দিবে। আমরা উদ্যোক্তাকারীদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি, যাতে করে ব্লক মার্কেটকে সেন্টার করে বাজারটি যেন  বিনিয়োগকারীদের জন্য সুন্দর ও সহনীয় থাকে।' 

উদ্যোক্তাদের শেয়ার বিক্রিতে আইন জোরদার ও সচেতন করার পরামর্শ বাজার সংশ্লিষ্টদের।

আইডিএলসি সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বলেন, 'শেয়ার কোন মার্কেটে বিক্রি করবে সেটাও আসলে অনেক উদ্যোক্তাকারীদের জানা নেই। আমার মনে হয় এখনই সময় এই জিনিসটি নিয়ে কাজ করার।'

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের এভাবে শেয়ার কেনা-বেচায় বাজার যেন বারবার ক্ষতিগ্রস্ত না হয়- সে বিষয়ে তৎপর থাকবে ডিএসই।
 
ডিএসই ব্রোকার্স সমিতির সভাপতি মোশতাক আহমেদ সাদেক বলেন, 'হঠাৎ করে এসে শেয়ার বিক্রি কিরে আবার চলে যাবে বা শেয়ার বিক্রি করবে এমনতো কোন নিয়ম নেই। মালিক-পরিচালকদের সাথে বৈঠকের বিষয়ে সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পরিষদ আছে, তাদের উচিত মালিকদের সাথে বসে এই বিষয়ে একটা সমঝোতায় যাওয়া। এভাবে বাজারটাকে নষ্ট করে দিতে পারে না।'

তবে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে বিদ্যুৎ খাতের এ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন অব্যাহত রয়েছে।