DBC News
শেয়ারের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ও পতন বাড়ছে

শেয়ারের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ও পতন বাড়ছে

তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ও দরপতনের ঘটনা বাড়ছে ঢাকার পুঁজিবাজারে। গেল সপ্তাহেই ৩টি কোম্পানিকে শোকজ করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। দরপতন ঠেকাতে একটি কোম্পানির উদ্যোক্তাদের শেয়ার বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞাও দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে আরো ৪টি কোম্পানির অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন। 

যৌক্তিক কারণেই পুঁজিবাজারে কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর কমবে- বাড়বে। আর তা থেকেই মুনাফার জন্য চলে শেয়ার কেনাবেচা। কিন্তু অনেকক্ষেত্রেই কোনো কারণ ছাড়াই বাড়তে বা কমতে শুরু করে শেয়ারদর।

এমন অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি হওয়া ৩টি কোম্পানিকে কারণ জানতে চেয়ে চিঠি দেয় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। অন্যদিকে একই ঘটনায় ৪টি কোম্পানির শেয়ারের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে বিএসইসি।

অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ঘটনায় ডিএসই ন্যাশনাল টি, রেকিট বেনকিজার এবং সোনারগাঁও টেক্সটাইল চিঠি দিয়েছে। এছাড়া অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি তদন্তে বিএসইসির তদন্তের আওতায় এসেছে ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক লিমিটেড (আইএসএন), স্টাইলক্রাফট লিমিটেড, ফাইন ফুডস লিমিটেড ও নর্দান জুট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেডে।

ডিবিএ'র সাবেক সভাপতি মোশতাক আহমেদ সাদেক বলেন, 'অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি হওয়া এই তিনটি কোম্পানী নিয়ে আমরাও উদ্বিগ্ন। এছাড়াও চারটি কোম্পানীর বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কোম্পানীর বিরুদ্ধে যদি অপরাধ প্রমাণিত হয়, তাহলে কর্তৃপক্ষের উচিত এসব কোম্পানি নিয়ে যারা বাজারকে অস্থিতিশীল করেছে তাদেরকে এমন শাস্তি দেয়া যাতে আর কেউ এসব করার সাহস না পায়।'

এদিকে, মূল্য সংবেদনশীল তথ্য গোপন রাখায় কেপিসিএলের উদ্যোক্তাদের শেয়ার বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

মোশতাক আহমেদ সাদেক আরও বলেন, 'কোন কোম্পানী যদি নতুন কোন পণ্য উৎপাদন না করে এবং কোম্পানীর লাইসেন্স রিনিউ না করে, তাহলে অবশ্যই এই তথ্যগুলো কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। কিন্তু তারা এসব না জানিয়েই শেয়ার বিক্রির যে ঘোষণা দিয়েছে তা অনেক বড় অপরাধ। এগুলো শেয়ার বাজারের জন্য অনেক বড় ধরনের ঝুঁকি।' 

কোম্পানি উদ্যোক্তাদের শেয়ার বিক্রিতে আইনী কাঠামো জোরদারের পরামর্শ ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশানের সভাপতি শাকিল রিজভীর। তিনি বলেন,
কোন কোম্পানীর কতভাগ শেয়ার বিক্রি হলে তারা ব্লক মার্কেটে শেয়ার বিক্রি করতে পারবে সেটার জন্য একটা আইন তৈরি করতে হবে।কোন কোম্পানীর পরিচালকের যদি অনেক শেয়ার থাকে এবং সে যদি ঘোষণা দেয় সেগুলো বিক্রি করার তাহলে পাবলিক মার্কেটে এ নিয়ে অস্থিররতা হবেই। সুতরাং এসব জায়গা আমাদের চিহ্নিত করতে হবে।'

এসব ঘটনা অনুসন্ধান শেষে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রকাশ করার পরামর্শও দিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা।