DBC News
বাণিজ্যমেলায় ২০০ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ

বাণিজ্যমেলায় ২০০ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ

২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ২শ' কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ এসেছে। সকালে রাজধানীর শেরেবাংলানগরে মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এবারের মেলায় সবচেয়ে লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো আমাদের দেশি পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। বায়াররা আমাদের পণ্যে আকৃষ্ট হচ্ছে। এর ফলে আগামীতে আমাদের আমদানি কমে যাবে।

বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি দেশের অর্থনীতিতে বানিজ্য মেলার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘বিদেশে রপ্তানির অর্ডার পেয়েছি প্রায় ২০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। সবকিছু বিবেচনায় এনে আমরা দেখেছি এবারের মেলাটা সফল ও সুন্দর হয়েছে।‘

টিপু মুনশি অরও বলেন, ‘দেশকে এগিয়ে নিতে হলে রপ্তানি বাড়াতে হবে। বর্তমানে রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশই আসে পোশাক খাত থেকে। কিন্তু রপ্তানি বাড়াতে হলে শুধু পোশাকের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকলে হবে না, পণ্যের বৈচিত্র্য আনতে হবে।‘

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আপাতত পূর্বাচলে যাচ্ছে না বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, পূর্বাচলে স্থানীয় পণ্য প্রদর্শনের জন্য যে কাজ চলছে, সেখানে বাণিজ্য মেলা হবে না। এই জায়গাও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। আগামী ৫/১০ বছর পরে এখানে মেলা করা সম্ভব হবে না। সেটা এখন থেকেই ভাবতে হবে।‘

এ সময় মন্ত্রী গত কয়েক বছরের বাণিজ্য মেলার ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকা রপ্তানি আদেশের পরিমান তুলে ধরে বলেন, গত বছর ২৩তম আসরে ২০ মিলিয়ন ডলার বা ১৬৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকার রপ্তানি আদেশ পায় বাংলাদেশি কম্পানিগুলো। তার আগের বছর ২২তম আসরে বাংলাদেশি কম্পানিগুলোর ২৪৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা বা ৩০ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন ডলারের স্পট অর্ডার এসেছিল। আর ২০১৬ সালে ছিল ২৩৫ কোটি ১৭ লাখ টাকার অর্ডার। এছাড়া ২০১৪ ও ২০১৫ সালে যথাক্রমে ৯৫ কোটি ও ৮০ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ পায় বাংলাদেশি কম্পানিগুলো। এর আগের বছর ২০১৩ সালে ১৫৭ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ এসেছিল।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, 'গত বছর ৩৬ বিলিয়ন ডলার রপ্তানী হয়েছে এ বছর পণ্য ও সেবা মিলিয়ে ৪৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।'

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব এস এম রেজওয়ান হোসেন এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টাচার্যসহ আরও অনেকে।

এবারের মেলায় অংশ নেওয়া ৬০৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দেয়া হয়।

এবার হাতিল কমপ্লেক্স প্রথম; ওয়াল্টন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ দ্বিতীয় এবং এসকোয়ার ইলেকট্রনিক্স তৃতীয় সর্বোচ্চ ভ্যাট প্রদানকারী হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছে।

এ বছর প্যাভিলিয়ন ছিল ১১০টি, মিনি-প্যাভিলিয়ন ছিল ৮৩টি ও রেস্তোরাঁসহ অন্যান্য স্টল ছিল ৪১২টি। বাংলাদেশ ছাড়াও ২৫টি দেশের ৫২টি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নেয়। দেশগুলো হলো- জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, থাইল্যান্ড, ইরান, তুরস্ক, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, চীন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, হংকং, সিঙ্গাপুর, মরিশাস, দক্ষিণ কোরিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

আরও পড়ুন

চলে গেলেন সোনালী কাবিন খ্যাত কবি আল মাহমুদ

সোনালী কাবিন’ খ্যাত আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি আল মাহমুদ আর নেই। রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাত ১১ টা ৫ মিনিটে মারা যান তি...

আইসিসিকে সহায়তার আশ্বস

রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংসতার প্রাথমিক পরীক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক আদালত, আইসিসির টিম পাঠানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ...

সুনামগঞ্জ সীমান্তে আবারও কয়লা আমদানি বন্ধ

সুনামগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে আবারো বন্ধ হয়ে গেছে ভারত থেকে কয়লা আমদানি। এতে লোকসানের মুখে পড়েছেন সুনামগঞ্জের পাঁচ শতাধিক আমদানিকারক। প্রায় একশ কোটি টাকার এলসি নিয়ে বি...

ক্রুজ ট্যুরিজমে বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা

ক্রুজ ট্যুরিজমকে ঘিরে পর্যটন শিল্পে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন দেশের ট্যুর অপারেটররা। বিলাসবহুল হওয়ায়, অল্প আয়োজনেই অর্থনীতিতে তুলনামূলক বেশি অবদান রাখার সুযোগ আছে অভ...