DBC News
বহিষ্কার আতঙ্কে বিএনপি নেতারা

বহিষ্কার আতঙ্কে বিএনপি নেতারা

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয়া এবং সহযোগিতা করার কারণে দেড়শ'র বেশি নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। সুবিধাবাদী ও আদর্শহীনদের দল থেকে বের করার এই প্রক্রিয়া চলতেই থাকবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। আর বহিষ্কৃতরা বলছেন, তৃণমূলে দলকে শক্তিশালী করতেই স্থানীয় এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তারা।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির পর এই সরকারের অধীনে আর কোন নির্বাচনে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। তাই পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দেয় দলটি।

কিন্তু তা উপেক্ষা করে এখন পর্যন্ত শতাধিক উপজেলায় প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। ফলে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে তাদের। এমনকি যারা নির্বাচনে সহযোগিতা করছেন তারাও বাদ পড়ছেন না। এখন পর্যন্ত দেড়শ'র বেশি নেতাকর্মীকে বহিষ্কার ও প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে। এই তালিকা প্রতিদিনই লম্বা হচ্ছে। যে কারণে আতঙ্ক আর ক্ষোভ বাড়ছে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে।

পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি(বহিষ্কৃত) আবু দাউদ প্রধান বলেন, আমি আমার এলাকার মানুষের জন্য কাজ করার লক্ষ্যেই নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি। আমি আশা করি দল থেকে এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে।

বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক (বহিষ্কৃত) বিউটি বেগম বলেন, আমি বিশ্বাস করি আমি নির্বাচিত হব। দলও আমাকে সাদরে গ্রহণ করবে। আমি প্রমাণ করে দেখাতে চাই এই এলাকা বিএনপির ঘাঁটি।

বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত তৃণমূলে কোন প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করেন বিএনপির অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। তিনি বলেন, দুষ্ট গরুর চেয়ে শূণ্য গোয়াল ভালো। যারা বার বার দলের সিদ্ধান্ত না মেনে কাজ করছে বা করবে তাদের বিরুদ্ধে আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিবই। আমরাও চাই দলে এবং তৃণমূলে নতুন নেতৃত্ব আসুক।

নেতারা বলছেন, শুদ্ধাভিযানের অংশ হিসেবেই সুবিধাবাদীদের চিহ্নিত করার এই প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিএনপি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যারা সুবিধাবাদী রাজনীতি করে তাদের দলে না থাকাই ভালো। সঠিক নির্দেশনা না মেনে যারা নিজেদের সুবিধার জন্য রাজনীতি করছে তাদের আমাদের দলে কোন স্থান নেই। এতে দলের কোন ক্ষতি হবে না বরং ভালো হবে।

দলকে ঢেলে সাজানোর জন্য ইতিবাচক সব কিছুই করা হবে বলেও জানান নেতারা।