DBC News
মঙ্গলগ্রহে গবেষণা করতে পারবে 'মার্স রোভার'

মঙ্গলগ্রহে গবেষণা করতে পারবে 'মার্স রোভার'

মঙ্গলগ্রহে গবেষণায় সক্ষম রোবট 'মার্স রোভার' তৈরী করেছে সিলেটের একদল তরুণ শিক্ষার্থী। পৃথিবী থেকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মঙ্গলগ্রহের প্রতিকূল পরিবেশে  বায়ুমন্ডল, মাটি, তাপমাত্রাসহ নানা উপাদান পরীক্ষা নিরীক্ষার কাজ করবে এই রোবট। চার বছরের গবেষণার ফসল 'মার্স রোভার' নিয়ে আমেরিকার 'নাসায়' প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার স্বপ্ন তরুণদের।

কৈশোর থেকেই মাথায় উদ্ভাবনী নানা চিন্তা ঘুরপাক খেতো প্রবাল আর ফাহিমের। সেই সাথে ছিলো মানবজাতির জন্য ভালো কিছু করার প্রত্যয়। তাই গেলো চারবছর ধরে চলে একাগ্র গবেষণা। মঙ্গলে প্রাণের সম্ভাবনা অনুপ্রেরণা যোগায় তাদের। গোলাপি এই গ্রহের বিরুপ আবহাওয়া আর ভূপ্রকৃতির কথা মাথায় রেখে বিশেষভাবে তৈরি করা হয় 'মার্স রোভারের' প্রতিটি যন্ত্রাংশ।

রোবটের ম্যাকানিকাল দিকের উদ্ভাবক ফাহিম আহমদ বলেন, ‘নাসা’র ওয়েবসাইটে সেসব তথ্য আছে, সেগুলোকে মাথায় রেখেই আমরা এটি নিয়ে এগিয়ে যাই। সবকিছু বিবেচনা করে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে এমন ম্যাকানিজম এতে ব্যবহার করা হয়েছে, যেটাকে আমরা রকার-বগি ম্যাকানিজম বলি। সেই অনুযায়ী আমরা এটা আপডেট করি।’

এই রোবট মঙ্গলে উৎক্ষেপণ করা হলে, সেখানকার বিরূপ প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করেই সংগ্রহ করবে আবহাওয়া ও ভূ-প্রাকৃতিক তথ্য উপাত্ত।

অপারেশন সম্পর্কের উদ্ভাবক ইমতিয়াজ আহমেদ প্রবাল বলেন, 'যে রোবটটা মঙ্গলগ্রহে যেতে পারবে এবং ব্যবহারযোগ্য হবে, এই ব্যপারগুলো মাথায় রেখে একটু পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়ে এমন একটা রোবট তৈরী করার চেষ্টা করি এবং আমাদের এই প্রচেষ্টায় আমরা অনেকটাই সফল।'

বাংলাদেশ ও ভারতে বেশকিছু রোবটিকস কম্পিটিশনে অংশ নিয়ে পুরস্কারও জিতেছে এই তরুণরা। শিক্ষার্থীদের এমন প্রচেষ্টায় সাহস ও পরামর্শ যুগিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও।

লিডিং ইউনিভার্সিটি ত্রিপল ই বিভাগ বিভাগীয় প্রধান রুমেল এস রহমান পীর বলেন, ‘শুধুমাত্র তাদের উদ্যোগই যথেষ্ঠ না। তাদের এই উদ্যোগের পাশাপাশি আরও প্রচুর পৃষ্ঠপোষকতা দরকার, যেটার মাধ্যমে এটা পূর্ণাঙ্গ একটা রোবট হিসেবে গিয়ে কাজ করতে পারে।’

সুযোগ পেলে 'মার্স রোভার' বিশ্বজয় করবে বলে মনে করেন শিক্ষাবিদরা।

সিলেট লিডিং ইউনিভার্সিটি উপাচার্য মোহাম্মদ কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘তাদের যে সহযোগিতা দরকার আমরা সেই সহযোগিতা করবো। এর বাইরে অন্যান্য যে পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন, যারা স্টেইকহোল্ডার আছে তাদেরও একটু এগিয়ে আসা দরকার।’

চার ক্যামেরা বিশিষ্ট 'মার্স রোভারে' রয়েছে টেম্পারেচার, সোলার, ম্যাজারিং, ওয়েট সেন্সরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সব ডিভাইস। নিজেদের মেধা আর উদ্যমে দীর্ঘদিন ধরেই রোবট নিয়ে গবেষণা করছে এই শিক্ষার্থীরা। এখন শুধু প্রয়োজন পৃষ্ঠপোষকতার। সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে একটু সহযোগীতা পেলে এই তরুণরাই বিশ্বকে চমকে দিতে পারবে, এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।