DBC News
প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে শনিবার গণভবনে যাচ্ছেন ডাকসুর নির্বাচিতরা

প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে শনিবার গণভবনে যাচ্ছেন ডাকসুর নির্বাচিতরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু ও হল সংসদের নির্বাচিতরা শনিবার দেখা করছেন প্রধানমন্ত্রীর সাথে। শনিবার বিকাল চারটায় গণভবনে এই সাক্ষাত অনুষ্ঠিত হবে।

ডাকসুর ভিপি নূরও যাচ্ছেন এই আমন্ত্রণে। জানা গেছে, গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নবনির্বাচিতদের অভিনন্দন জানাবেন। এই আমন্ত্রণ পাবার কথা জানিয়ে নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ ভাগ্যের ব্যাপারা। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পরামর্শ পাবেন বলেও মনে করেন নতুন ভিপি নুরুল হক।

এর আগে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ ও হল সংসদে নির্বাচিতদের অভিষেকের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন, উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান। বৃহস্পতিবার দুপুরে, সাংবাদিকদের একথা জানান উপাচার্য। 

অধ্যাপক মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলেন, 'এরই মধ্যে বিজয়ীদের চিঠি দেয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে অভিষেকের দিন ঠিক করা হবে। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধ বজায় রেখে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ সুন্দর রাখার আহ্বান জানান উপাচার্য। 

অধ্যাপক আখতারুজ্জামান আরও বলেন, ‘উদ্দেশ্য প্রণেদিতভাবে কিছু বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এগুলো শীঘ্রই দূর হবে কারণ সত্যের একটি শক্তি আছে। শিক্ষার্থীরা সুশৃঙ্খলভাবে যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তার আহ্বান জানাচ্ছি’।

এদিকে, নবনির্বাচিত জিএস ও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী জানিয়েছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোন চিঠি পাননি তরা।

গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘আমরা এখনো কোন আনুষ্ঠানিক চিঠি পাইনি। আমাদের সঙ্গে উপাচার্য স্যারের কথা হয়েছে তিনি বলেছেন কাল বা পরশুর মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের জানাবেন’। 

অন্যদিকে, ভিপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই একেক সময় একেক রকম কথা বলে আলোচনায় থাকছেন কোটা আন্দোলন নেতা নুরুল হক। তিনি দায়িত্ব নিতে  ছাত্রলীগের সহযোগিতাও চেয়েছেন, অন্যদিকে দিচ্ছেন আন্দোলনের হুমকিও। 

নুরুল হক জানিয়েছেন, ‘আমার সংগঠনের যারা ছিল তারা আমার এই অর্জনের জন্য অনেক শ্রম দিয়েছে। আমি আমার সংগঠনের সহপাঠি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের মতামত নিচ্ছি। তারা যদি চায় আমি ভিপি পদে থেকে তাদের জন্য কাজ করে যাবো আর না চাইলে এই পদে থাকবো না’।

এদিকে, ডাকসু পুনর্নির্বাচন ও রোকেয়া হলের প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে গতকাল বুধবার থেকে আমরণ অনশন করছেন রোকেয়া হলের পাঁচ শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবারও ডাকসু ও হল সংসদে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে, অনশন করছেন তারা। এছাড়া, রাজু ভাস্কর্যের সামনে ৬ শিক্ষার্থী অনশন করছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দিয়েছেন তারা।

তবে দুই/একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে মন্তব্য করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য মুহাম্মদ সামাদ বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেছেন, 'আবারও ডাকসু নির্বাচনের কোনও সুযোগ নেই'।

প্রসঙ্গত; দীর্ঘ ২৮ বছর পর গত ১১ই মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ২৫টি পদের মধ্যে দু’টি ছাড়া সব পদে বিজয়ী হয় ছাত্রলীগ। ভোটের দিনই নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করে ছাত্রদল, বামজোটম ইসলামী আন্দোলন স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জোট, ও সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্যানেল। এরপর থেকেই তারা পুনর্নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন।