DBC News
বাসচাপায় শিক্ষার্থীর মৃত্যু: বিক্ষোভে উত্তাল সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

বাসচাপায় শিক্ষার্থীর মৃত্যু: বিক্ষোভে উত্তাল সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ঘোরি মোহাম্মদ ওয়াসিমকে বাস থেকে 'ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যার' প্রতিবাদে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ করছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা।

এদিকে, ওই দুর্ঘটনার পর বাস চালক ও তার সহকারীকে আটক করেছে পুলিশ। ওয়াসিমের মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান কয়েক'শ শিক্ষার্থী। এ সময়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সেখানে বিক্ষোভ করেন। পরে কদমতলী এলাকার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেন শিক্ষার্থীরা।

গতকাল শনিবার সকালে, মৌলভীবাজারে উদার পরিবহণের একটি বাসের ভাড়া নিয়ে বাক-বিতণ্ডার পর সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ওয়াসিমকে ফেলে দিলে, শেরপুর চত্ত্বরে বাসচাপায় গুরুতর আহত হন তিনি। পরে, সিলেট এম এ জি ওসমানী সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ সময়, আরেক শিক্ষার্থী রাকিব হোসেনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

এই হত্যার প্রতিবাদে, আজ থেকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব  ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেছেন শিক্ষার্থীরা। বাস টার্মিনাল ও  সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। 

এর আগে, শনিবার সন্ধ্যায় ওয়াসিমের মৃত্যুর ঘটনায় শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়কে লাঠি মিছিল করেন। এছাড়া কয়েকটি বাসের কাউন্টারে ভাঙচুর চালায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এরপর নগরীর হুমায়ূন চত্বরে কিছু সময় অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।

শনিবার রাত ১১টার দিকে কদমতলী টার্মিনাল থেকে ওই বাসের চালক জুয়েল মিয়া এবং পরে সুনামগঞ্জের জাউয়া বাজার থেকে সহকারী মাসুক মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ।

দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি খায়রুল ফজল জানান, 'শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গতকাল শনিবার রাত ৯টার দিকে কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিলাল এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর করে শিক্ষার্থীরা।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মৃত্যুঞ্জয় কুন্ডু জানান, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি। বাসের চালক ও হেলপারকে আটক করেছে পুলিশ।’ আইন অনুযায়ী দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি। সেই সঙ্গে, আগামীকাল থেকে ক্লাস-পরীক্ষা স্বাভাবিক হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রক্টর।