DBC News
'দুর্নীতিতে জর্জরিত বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশন'

'দুর্নীতিতে জর্জরিত বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশন'

দুর্নীতিতে জর্জরিত বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশন। অনৈতিকতার আশ্রয় নিয়ে ফেডারেশন কর্তারা মেতে উঠেছেন স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতায়। জাতীয় টেবিলটেনিস চ্যাম্পিয়নশিপে, ম্যাচ শুরুতে আধ ঘণ্টা বা মিনিট চল্লিশেক বিলম্ব খুব স্বাভাবিক ঘটনা। টুর্নামেন্টের ব্যানারে বাংলা অভিধানের নিয়মে চ্যাম্পিয়নশিপ বানানটাও ভুল। তাতেও সমস্যা নেই।

কেমন চলছে এবাবের টুর্নামেন্ট, সে খবর জানতে কথা হয় পাঁচবাবের জাতীয় চ্যাম্পিয়ন ও বাংলাদেশ গেমসে ব্রোঞ্জজয়ী সালেহা পারভীন সেতুর সাথে। তাতেই বেরিয়ে আসে থলের খবর।

স্বর্ণজয়ী টেবিল টেনিস খেলোয়াড় সালেহা পারভীন সেতু বলেন, ‘ফিকশ্চার থেকে শুরু করে নিয়মাবলী, সব জায়গাতেই দূর্নীতির একটা আভাস। কোনও খেলোয়াড়ের পক্ষপাতিত্ব করে, এমনভাবে সব কিছু সেট করা হয় যাতে তার খেলোয়াড় উঠে আসে। এইভাবে যদি প্রচলিত নিয়ম ভেঙ্গে এইসব কার্যক্রম চলতে থাকে তাহলেতো নেতিবাচক একটা প্রভাব সব জায়গাতেই পরবে।’

আন্তজার্তিক টেবিল টেনিস ফেডারেশনের নিয়ম অনুযায়ী, যদি ১৬ জন প্রতিযোগী বা দল থাকে, তবে র‌্যাঙ্কিং অনুযয়ী একের বিপক্ষে খেলবে ১৬, দু্ইয়ের বিপক্ষে ১৫, তিনের বিপক্ষে ১৪, চারের বিপক্ষে ১৩ এভাবে শেষ পর্যন্ত একের সাথে খেলবে ৯। তবে বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের আয়োজনে ৩৮তম জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে চলছে, স্বজনপ্রীতীম ক্লাবপ্রীতী আর স্বেচ্ছাচারিতার প্রিতিযোগিতা।

ব্যাপারটা এমন যে, আপনি একজন ফেডারেশন কর্তা আর আপনার এক নিকট আত্মীয় আছে ১০ নম্বর পজিশনে। যার খেলার কথা ছিল সাতের সাথে। যদিও ক্ষমতা বলে আপনি খেলালেন তাকে, যে ১১ নম্বরে আছে তার বিপক্ষে। বা যে আছে ১৫ নম্বরে তাকে দুইয়ের বিপক্ষে না খেলিয়ে স্বার্থের কারণে খেলানো হলো ১২’র বিপক্ষে। আবার ১৬তে যে আছে তাকে র্যা ঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা খেলোয়াড়ের বিপক্ষে না খেলিয়ে খেলানো হলো ১৩তে থাকা প্রতিযোগির সাথে।

অনৈতিকভাবে ফিকশ্চারে গড়মিলের মাধ্যমে ফেডারেশন কর্তারা স্বজনপ্রীতি আশ্রয় নিচ্ছে তার প্রমাণ নিতে দেখতে হবে সেই ফিকশ্চারের মূল কপি। তা দেখতে গিয়েই বাধে বিপত্তি। বারবার কাটা-কাটি আর ভুলে ভুরা। উল্টো দায়িত্বে থাকা হাজিফুর রহমান রীতি মতো ডিবিসি নিউজ প্রতিবেদককে আইন শিখিয়ে দিলেন।

শেষ পর্যন্ত প্রতিবেদককে দেখতেই দেয়া হলো না ফিকশ্চার। দায়িত্বরত মইনুজ্জামান পিলা ফাইল নিয়ে একপ্রকার পালিয়েই চলে গেলেন। সালেহা পারভীন সেতুর বক্তব্য উঠে এল ফেডারেশন কর্তাদের অপেশাদার আচরণ আর অদক্ষতার পরিচয়ও।

সালেহা পারভীন সেতু বলেন, ‘যারা পরিচালনা করছে, তারা নিয়ন্ত্রণ করবে খেলোয়াড়দেরকে। এখন খেলোয়াড়রা যদি তাদের নিয়ন্ত্রণ করে, তাহলেতো হবে না। তাহলে সেখানে এখন দক্ষ লোকজন লাগবে। যদি কর্মকর্তাদের মাঝেই সমস্যা থাকে, তাহলে খেলোয়াড়রা তো এমন করবেই।’

সকল প্রশ্নের উত্তরের খোঁজে বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীনর আলমের মুখোমুখি হলে, ফিকশ্চারে যে গড়মিল হয়েছে তা পরোক্ষে বলেই ফেললেন তিনি।

শেখ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আন্তজার্তিক টেবিল টেনিস ফেডারেশন থেকে আমাদের জানানো হয়েছে, যদি আমরা প্রয়োজন মনে করি, তাহলে আমরা পরিবর্তন আনতে পারি টুর্নামেন্টের স্বার্থে।’

টুর্নামেন্টের স্বার্থে নাকি, নিজেদের স্বার্থে এই রদবল, তা নিশ্চই বুঝতে কারোরই বাকি নেই। তবে খেলা শুরুতে বিলম্ব, খেলোয়াড় বা আম্পায়ারদের সময়জ্ঞানহীনতার প্রশ্নে তিনি দেখালেন খোড়া যুক্তি। অন্যায় হচ্ছে, তবে শাস্তির ক্ষেত্র আছে নাকি বাধা-নিষেধ।

বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে। হয়তো দেখা যায়, একটা ম্যাচে সময় বেশি লেগে গেছে। সেক্ষেত্রে হয়তো কিছুটা বাঁধা পেতে পারে।’

টুর্নামেন্টের স্বার্থে নাকি, নিজেদের স্বার্থে এই রদবল, তা নিশ্চই বুঝতে কারোরই বাকি নেই। তবে খেলা শুরুতে বিলম্ব, খেলোয়াড় বা আম্পায়ারদের সময়জ্ঞানহীনতার প্রশ্নে তিনি দেখালেন খোড়া যুক্তি। অন্যায় হচ্ছে, তবে শাস্তির ক্ষেত্র আছে নাকি বাধা-নিষেধ।

ক্রিকেট বা ফুটবলের মতো, দুই একটা খেলা বাদে আমাদের দেশের অধিকাংশ খেলাই পড়ে আছে অন্ধকারে। আর সে সুযোগেই স্বজনপ্রীতি আর স্বেচ্ছারিতার হোমগ্রাইউন্ড হয়ে উঠছে দেশের ক্রীড়াঙ্গণ।