DBC News
ভিক্ষা নয়, সবার ভালবাসা চান রোমিও

ভিক্ষা নয়, সবার ভালবাসা চান রোমিও

ফেনী শহরে এক মানসিক ভারসাম্যহীন দম্পতির দীর্ঘদিনের অবাধ বিচরণ সবার নজরে পড়তো। এই দম্পতির ভালবাসা এমনই ছিল যে ফেনীর লোকজন তাদের রোমিও-জুলিয়েট নামে আখ্যা দেয়।

রোমিও'র প্রকৃত নাম আবু বক্কর সিদ্দিক। কিন্তু জুলিয়েটের আসল নাম জানা যায়নি। একটি ঠেলা গাড়িতে জুলিয়েটকে বহন করে রোমিও সারা শহরময় ঘুরে বেড়াতেন। তারা দু'জনেই ভিক্ষা করতেন। কখনও কখনও মানুষের ওপর চড়াও হতেন। যেখানে যা পেতেন তাতেই তাদের খাবার হয়ে যেত। এই দম্পতি রাত কাটাতেন সরকারি অফিস-আদালতের বারান্দায়।

জানা যায়, শত কষ্ট আর অভাব অনটনে রোমিও-জুলিয়েট’র দাম্পত্য জীবন কাটছিলো। কিন্তু, হঠাৎ একরাতে তাদের একমাত্র সন্তানটি চুরি হয়ে যায়। তারপর থেকে দু’জনই উদভ্রান্ত, কাটাচ্ছিলেন অনাহারে অর্ধহারে যাযাবর জীবন।

২০১৭ সালের ১৫ই মে তাদের কোল জুড়ে আরেকটি সন্তান আসে। তারা সে কন্যার সন্তানের নাম রেখেছিলেন রানী। কিন্তু জম্মের দুই দিন পরেই তাদের সেই আশার প্রদীপ মারা যায়। তারপর, মানসিকভাবে আরো বেশি ভেঙ্গে পড়েন রোমিও-জুলিয়েট দম্পতি। মেয়ের শোক আর অভাব অনটনে গত ৫ই জুন মারা যান সেই জুলিয়েট।

পরে, ফেনী পৌরসভার ১০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহতাব উদ্দিন মুন্নার সহযোগিতায় জুলিয়েটের দাফন সম্পন্ন হয় ফেনী পৌর কবরস্থানে তার মেয়ে রাণীর পাশে। স্ত্রী জুলিযেটের মৃত্যুর পর রোমিও কাউন্সিলরকে বলেছিলেন তিনি সুস্থ জীবনে ফিরতে চান।

তারই ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার সকালে, আবু বক্কর সিদ্দিককে (রোমিও) একটি রিক্সা এবং তার বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হস্তান্তর করেন কাউন্সিলর মাহতাব উদ্দিন মুন্না।

রোমিওখ্যাত আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, তিনি আর ভিক্ষা করবেনা, কাজ করে খাবেন। তাই তিনি সমাজের সবার কাছে দোয়া ও ভালবাসা চেয়েছেন।