DBC News
হিজাব না পরায় নারী যাত্রীকে মাঝ রাস্তায় নামিয়ে দিলেন ট্যাক্সি চালক

হিজাব না পরায় নারী যাত্রীকে মাঝ রাস্তায় নামিয়ে দিলেন ট্যাক্সি চালক

হিজাব না পরে ট্যাক্সিতে ওঠায় এক নারী যাত্রীকে মাঝ রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছেন ইরানের জনপ্রিয় অ্যাপভিত্তিক এক ট্যাক্সি সার্ভিসের গাড়িচালক। এ ঘটনায় ইরানের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা দেশটির ‘স্ন্যাপ’ নামের ট্যাক্সি অ্যাপ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

এরপর, ওই নারী যাত্রী টুইটারে ট্যাক্সি চালকের ছবি দিয়ে লেখেন, ‘এই সেই ট্যাক্সি চালক যিনি আমাকে মাঝ রাস্তায় ট্যাক্সি থেকে নামিয়ে দিয়েছেন।‘ ওই নারী আরো লেখেন, চালককে কড়াভাবে শাসানোর জন্য তাকে অ্যাপ কোম্পানি তরফ থেকে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।

তবে, স্ন্যাপ নামের ওই অ্যাপ কোম্পনি অভিযোগকারী নারীর কাছে ক্ষমা চায়।

কিন্তু, এ ঘটনায় ইরানের রক্ষণশীলরা এ ঘটনায় স্ন্যাপ নামের ওই অ্যাপ কোম্পানির কড়া সমালোচনা করেন। তারা বলেন, ‘যারা ইসলামের মূল্যবোধকে সম্মান জানাতে পারেনা তাদের সামনে মাথা নত করা উচিত না।‘

একজন টুইট করে লিখেছেন, ‘ওই নারীর অশালীন আদব-কায়দার জন্য যদি কোম্পানির ম্যানেজার ক্ষমা চেয়ে থাকে তাহলে স্ন্যাপ অ্যাপ বন্ধের পাশাপাশি তাকে ইসলামিক প্যানেল কোডে বিচার করা উচিত। কারণ তিনি ওই ট্যাক্সি চালককে শাসানোর মাধ্যমে নারীদের এ ধরনের অশালীনতাকে উস্কে দিচ্ছেন।‘

পরবর্তীতে ইরানের একটি টেলিভিশনে চ্যানেলে দেয়া সাক্ষাৎকারে ওই ট্যাক্সি চালক সায়িদ আবেদ বলেন, ‘যদি পুলিশ দেখতো তার যাত্রী হিজাব পরেনি তাহলে তাকেই জরিমানা করত।‘ আর তিনি যা করেছেন সেটা তার ধর্মীয় দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন সায়িদ আবেদ।

পরবর্তীতে, এ ঘটনায় ওই যাত্রী তার প্রথম টুইট মুছে ফেলেন এবং ক্ষমা চেয়ে লেখেন, ‘আমি স্ন্যাপ কোম্পানি, ট্যাক্সি চালক এবং যারা এই ঘটনায় কষ্ট পেয়েছেন তাদের সবার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।‘ তিনি আরও লেখেন, ‘আমি ঘোষণা করছি, আমি আমার দেশের আইন মানতে বাধ্য।‘

এ ঘটনায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হ্যাশট্যাগ ‘’বয়কট স্ন্যাপ’’ চালু করা হয়।

এদিকে, ইরানের এ্যারোস্পেস কমান্ডার অব দ্যা ইসলামিক রিভিউলিশন গার্ডস কর্পস এর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির আলী হাজিজেদেহে ঐ চালকের সাথে দেখা করে তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আর স্ন্যাপ কোম্পানি ঐ চালকের কাছে ক্ষমা চেয়ে এক বিবৃতিতে বলেছে, ট্যাক্সি চালক সানন্দে তাদের কোম্পানিতে কাজ করতে পারবে।

পরে, দেশটির পুলিশ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ‘হিজাবের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার বিক্ষোভে অংশ নিলে ১০ বছর পর্যন্ত সাজা হতে পারে।‘ ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানের কর্তৃপক্ষ দেশটিতে নারীদের জন্য হিজাব পরা বাধ্যতামূলক করে।

সূত্র: বিবিসি