DBC News
টাঙ্গাইলের বাঁধ মেরামতে কাজ করছে সেনাবাহিনী

টাঙ্গাইলের বাঁধ মেরামতে কাজ করছে সেনাবাহিনী

বন্যার পানিতে ভে‌ঙে যাওয়া টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর-তারাকান্দি বাঁধ মেরামতের জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে সেনাবা‌হিনী, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসন মেরামত কাজে অংশ নিয়েছে। 

বঙ্গবন্ধু সেনানিবাসের ১৮ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাটালিয়নের সেনা সদস্যরা এ কাজ শুরু বিশেষভাবে সহযোগিতা করছেন। বালুর বস্তা ভর্তির কাজ শুরু হলেও একখনও পর্যস্ত বালুর বস্তা ফেলে পানির স্রোত রোধের কাজ শুরু হয়নি। 

এর আগে, বৃহস্প‌তিবার বিকেল ৬টার দিকে বাঁধের ভূঞাপুর-তারাকান্দি অংশে ফাঁটল দেখা দেয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় প্রশাসন ও এলকাবাসী বালুর ব্যাগ ফেলে তা বন্ধ করার চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়। পরে রাত ৭টা ৩৫ মি‌নি‌টে দিকে এ সড়ক ভে‌ঙে গি‌য়ে প্লা‌বিত হ‌য়ে‌ছে বিস্তীর্ণ এলাকা। বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সড়ক যোগাযোগ। অল্প সময়ের মধ্যেই বন্যা কবলিত হয় পার্শ্ববর্তী গোপালপুর ও ঘাটাইল উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন।

গত বুধবার রাতে তাড়াই এলাকার বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় দশটি গ্রাম। বৃহস্পতিবার সকালের দি‌কে বন্যার পানিতে প্লাবিত হয় পৌরসভার টেপিবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়। পরে দুপুর একটার দিকে বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের দুটি টিনের ঘর ভেসে যায়। ঝুঁকির মুখে পড়ে উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি তিনতলা ও একতলা ভবন। এছাড়া, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি পাকা ভবন ঝুঁকির মুখে রয়েছে। 

বাঁধটি রক্ষার জন্য সেনা মোতায়েনের দাবী করেছিলো স্থানীয়রা। তাদের অ‌ভি‌যোগ পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের গা‌ফিল‌তির কার‌ণে তাড়াই বাঁধটি বন্যার পা‌নি‌তে ভে‌ঙে গে‌ছে। স্থানীয়রা অনেক চেষ্টা করেও তা রক্ষা করতে পারেনি।

এদিকে, টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশরী সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'গত কয়েকদিন ধরেই সড়ক‌টি হুমকির মুখে ছিলো। এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে লিকেজ দেখা দিলে তা দ্রুত বন্ধ করতে সক্ষম হই। এ অংশে হঠাৎ করেই পানির চাপ বেড়ে লিকেজ দেখা দেয়। পানির চাপের কারণে  চেষ্টা করেও তা রক্ষা করা যায়নি।'

অন্যদিকে, শুক্রবার যমুনা নদীর পানি ২ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৯৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার ৭টি উপজেলার ১৫০টি গ্রামের কয়েক শতাধিক গ্রামের কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বন্ধ রয়েছে শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পানিতে তলিয়ে গেছে চরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি গ্রাম। বন্যাকবলিত মানুষজন, খাদ্য ও বাসস্থান সংকটে পড়েছে। এছাড়াও গবাদিপশু নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।

বন্যার্তদের মাঝে ২০০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ তিনলাখ টাকা বিতরণের কথা জানালেও অধিকাংশ বানভাসি মানুষ ত্রাণ না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

শুক্রবার ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করছেন পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার। এ সময় তিনি জানান, 'যমুনার পশ্চিমাংশে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রায় শেষের দিকে, পূর্বাংশে প্রাথমিক ভাবে কাজ চলছে। বকশিগঞ্জ থেকে গোয়ালন্দ পর্যন্ত ভাঙন রোধে সার্ভে করে স্থায়ী ভাবে বাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অগামী বছর থেকেই কাজ শুরু করার আশ্বাস দেন তিনি।'

এদিকে, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, 'জেলা প্রশাসনের আহ্বানে সেনাবাহিনী বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করেছে। বন্যার্তদের পর্যাপ্ত ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। যারা বন্যার পানিতে আটকা পড়েছেন তাদের কাছে গিয়ে হাতে হাতে ত্রাণ পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। মেডিক্যাল টিম স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছে।'