DBC News
আইপিওতে কোটা বদল, সুবিধা পাবে না বাজার

আইপিওতে কোটা বদল, সুবিধা পাবে না বাজার

আইপিওতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কোটা সুবিধা বাড়ানোতে পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি মোটেও বদলাবে না। বরং বিশ্লেষকদের আশঙ্কা- এতে সেকেন্ডারি মার্কেট থেকে বিনিয়োগ তুলে ফেলার প্রবণতা বাড়াতে পারে। আরো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে মূলবাজার। অবশ্য এই সিদ্ধান্ত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের নতুন বিনিয়োগে উৎসাহ ও অংশগ্রহণ বাড়াবে পুঁজিবাজারে- এমন ভিন্নমতও রয়েছে। 

পুঁজিবাজার উন্নয়নে পাবলিক ইস্যু আইনে বেশকিছু সংশোধনী এনেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন। সংশোধনীর শুরুতেই বলা হয়েছে- সেকেন্ডারি মার্কেটে কমিশনের সুনির্দিষ্ট বিনিয়োগ না থাকলে আইপিওতে কোটা সুবিধা পাবে না প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা।

এতে জটিলতা ও বিভ্রান্তি বাড়বে বলছেন বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী।

বাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করা ভূঁইফোড় কিছু বিনিয়োগকারী ঠেকাবে এই সংশোধনী। কিন্তু এমন বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত রয়েছে বিশ্লেষকদের।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যা্লয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল বলেন, যারা সেকেন্ডারী মার্কেটে ব্যবসা করতে চাননা, তাদেরকে যদি জোর করে বা কৌশলে বলি তোমাদের এখানে ব্যবসা করতে হবে সেটার সুফল কতটা পাওয়া যাবে তা সন্দেহের বিষয়।

সংশোধনীতে আইপিওতে কোটা সুবিধা কমেছে যোগ্য বিনিয়োগকারীর। বেড়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের।

পদ্ধতি-ফিক্সড প্রাইজ

যোগ্য বিনিয়োগকারী কোটা (৪০% থেকে হবে ৩০%)

সাধারণ বিনিয়োগকারী কোটা (৪০% থেকে হবে ৫০%)

পদ্ধতি- বুক বিল্ডিং

যোগ্য বিনিয়োগকারী কোটা (৬০% থেকে হবে ৫০%)

সাধারণ বিনিয়োগকারী কোটা (৩০% থেকে হবে ৪০%)

এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের উপকার নয়- বরং ক্ষতির হার বাড়াবে এমন আশঙ্কা বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকীর।

তিনি বলেন, যে ধরণের কোম্পানী গত পাঁচ ছয় বছরে এসেছে, যাদের ইস্যু প্রাইস থেকেই দাম কমে যাচ্ছে। সে ধরণের কোম্পানী যদি বাজারে আসে তাহলে সাধারণ বিনিয়োগকারীর কোটা বাড়িয়ে তাদের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।

এই সিদ্ধান্ত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পক্ষে গেছে বলছেন ডিএসই'র সাবেক সহ সভাপতি আহমেদ রশীদ লালী। তিনি বলেন,যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে আমার মতে এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ভালোই হবে।

সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সেকেন্ডারি মার্কেটের বিনিয়োগ তুলে প্রাইমারিতে ঝুঁকতে পারে। যা মূলবাজারের ভিত্তিকে দুর্বল করবে।

এছাড়াও এখন থেকে মিউচুয়াল ফান্ডে শুধু নগদ লভ্যাংশ দেয়ার নিয়মকে ইতিবাচক বলছেন বাজার সংশ্লিষ্ট ও বিশ্লেষকরা। সেই সঙ্গে ফিক্সড প্রাইজে কমপক্ষে ৩০ কোটি ও বুক বিল্ডিংয়ে কমপক্ষে ৭৫ কোটি টাকা তোলার নিয়মে বাজারে শক্তিশালী মৌলভিত্তির কোম্পানি আসবে বলেও মনে করেন তারা।