DBC News
কাশ্মীর সমস্যা: 'ওআইসি’র কথা শুনবে বিশ্ব’

কাশ্মীর সমস্যা: 'ওআইসি’র কথা শুনবে বিশ্ব’

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন ও বিশেষ অধিকার বাতিল এবং দুটি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করেছে ভারত। তাদের সংবিধান বলে বিজেপি সরকার গত সোমবার এই সদ্ধান্ত নেয়। কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলে 'বিজেপির বেপরোয়া ও ভয়াবহ পদক্ষেপে উপমহাদেশে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে' বলে মনে করছে পাকিস্তানি গণমাধ্য ডন। একইসঙ্গে এই সিদ্ধান্ত একটি ধ্বংসাত্মক পথের দিকে যাচ্ছে বলেও মত দেয়া হয়েছে। এমনকি ভারত সরকার কাশ্মীরে আগুন নিয়ে খেলার ঝুঁকি নিয়েছে বলেও তাদের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে। ওই সম্পাদকীয়তে কাশ্মীরের বিভিন্ন মতাদর্শের নেতৃবৃন্দকে 'ভারতের মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধ' হওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।  

ডন তাদের সম্পাদকীয়তে বলছে,

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চারপাশ ঘিরে কট্টরপন্থী হিন্দু মৌলবাদীরা আন্তর্জাতিক অভিমতকে পাত্তা না দিতে মোদিকে উদ্বুদ্ধ করেছে যদিও কাশ্মীরকে একটি বিরোধপূর্ণ অঞ্চল বলেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিবেচনা করে। অধিকৃত অঞ্চলকে ভারতীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত করে দেশটি ধ্বংসাত্মক পথে এগিয়েছে। এই দুরভিসন্ধিপূর্ণ লক্ষ্য দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির এজেন্ডা ছিল।

ভারতের সর্বশেষ লোকসভা নির্বাচনের পর মোদি ও তার সঙ্গীরা এই হঠকারিতাপূর্ণ উদ্দেশ্য দিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে আত্মবিশ্বাস হয়। ক্ষমতা ও উচ্চাভিলাষে মত্ত হয়ে তুচ্ছ রাজনৈতিক স্বার্থ লাভে আগুন নিয়ে খেলার ঝুঁকি নিয়েছে ভারত সরকার।

তবে, যে প্রশ্নটি এখানে করতেই হবে: তারা এখন কোথায়, অল্প কয়েক দিন আগে যারা কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে মধ্যস্থতার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন?

সত্যিকার অর্থে কাশ্মীরে ভারতীয় পদক্ষেপ নিয়ে মার্কিন প্রতিক্রিয়া ব্যাপকভাবে হতাশাজনক। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যা মন্তবয দিয়েছে তা লোক দেখানো,  যেখানে পাকিস্তানের অবস্থানের কথা উল্লেখ করা হয়নি, এবং এটি দৃষ্টিকটু। এতে মূলত নয়াদিল্লির জঘন্য দাবিকেই পরোক্ষভাবে সমর্থন জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ‘ভারতীয় সরকারের বিবরণ কাশ্মীরে এই পদক্ষেপ তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।’

কাশ্মীরে নিজেদের জিঘাংসাপূর্ণ পদক্ষেপকে ভারত সরকার যে যেভাবেই দেখুক না কেনো, যুক্তরাষ্ট্রের অবশ্যই সত্যকে সত্য বলার এবং এ সংকটে ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি রাখার সাহস থাকা উচিত ছিল। এই কঠিন সংকটপূর্ণ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের এমন গতানুগতিক বিবৃতির পর ইসলামাবাদ ও নয়াদিল্লির মধ্যে মধ্যস্থতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতার প্রস্তাব এবার বাতাসে মিশে গেলো।

তবে, গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহের একটা ইতিবাচক উন্নয়ন আমরা দেখতে পাচ্ছি, অধিকৃত কাশ্মীরের নেতৃবৃন্দ ভারতের এমন পরিকল্পনার বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ হচ্ছে।

এদিকে, আলী গিলানি, মিরওয়াইজ ওমর ফারুকের মতো হুররিয়াত নেতৃবৃন্দ, জেকেএলএফের প্রধান ইয়াসিন মালিক যখন ভারতকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে, নয়াদিল্লির সাবেক অনুগত সংস্থা 'আইএইচকে' কাশ্মীরকে ভারতের অন্তর্ভুক্তকরণ তখন প্রত্যাখ্যান করেছে।

ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের সিদ্ধান্তকে ভারতীয় গণতন্ত্রের সবচেয়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন দিন বলে আখ্যায়িত করেছেন আইএইচকের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। এছাড়া, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহও এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছেন।

এখন কাশ্মীরের বিভিন্ন মতাদর্শের নেতৃবৃন্দকে, তাদের নানা মতকে কবর দিয়ে, ভয়াবহ এই ইস্যুতে ভারতের মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময় এসেছে। এটি রাজনীতির বাইরের এবং একটি স্বতন্ত্র অস্তিত্ব হিসেবে কাশ্মীরের টিকে থাকা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়। এই ইস্যুতে মালয়েশিয়া ও তুরস্কসহ বিদেশি নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা ও তাদের ঐক্যবদ্ধ করা ছিল পাকিস্তানের ভালো উদ্যোগ। 

ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা, ওআইসির কঠোর দৃষ্টির মধ্যে দিয়ে কাশ্মীর সংকটকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিয়ে যাওয়ার সময় এখনই। কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের একক প্রতিবাদ সম্ভবত অকার্যকর হতে পারে । কিন্তু কাশ্মীরের ভুক্তভোগীদের প্রতি ওআইসি সহায়তার হাত বাড়ালে বিশ্ব হয়তো তাদের কথা শুনবে।

উৎস: সম্পাদকীয়, দৈনিক ডন, পাকিস্তান

তারিখ: ৭ই আগস্ট, ২০১৯