DBC News
রিফাত ছাড়া ঈদ কত কষ্টের শুধু জানে মৌ

রিফাত ছাড়া ঈদ কত কষ্টের শুধু জানে মৌ

প্রতিবছরের মত আনন্দ উচ্ছাস নিয়ে এসেছে ঈদ-উল আযহা। ঈদের আনন্দে সবাই যখন মাতোয়ারা তখন বরগুনায় দৃর্বৃত্তদের হাতে নিহত রিফাত শরীফের বাড়িতে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজরিতে শোকে স্তব্ধ গোটা বাড়ি। হত্যাকারীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত কিছুতেই যেন কাটবেনা এমন শোক।

রিফাত নেই । সুনসান নিরব গোটা বাড়ি । থেমে থেমে ভেসে আসে একমাত্র ছেলে সন্তানহারা এক মায়ের আহাজারি। কিছুতেই থামছেনা তার কান্না। মাস দেড়েক  আগে মারা যায় রিফাত। তবুও শোকের মাতম কমেনি । বরং ঈদের আগমনী যেন বেদনাকে বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুন। এমনটাই তো হওয়ার কথা। এটাই তো স্বাভাবিক। ঈদ আসায় হাজারো স্বজনদের মনে নাড়া দেয়। বেদনার তীব্রতাকে ধরে রাখা দায়। 

রিফাতের ছোটো বোন ইসরাত জাহান মৌ। তার কষ্টের যেন সীমা নেই। তাকে বুঝাবে কে? সেই ভাইটিই তো নাই। ভাইয়ের আদরে ছোটো থেকে বড় হয়েছে মৌ। ভাইকে ছাড়া একবেলা আহার। তার ভাবনার মধ্যেই আসে না।  সেই ভাইকে ছাড়া ঈদ! এ কেমন কষ্টের তা শুধু মৌই জানে। অথচ, একমাত্র ভাইকে ঘিরে সুখ দুখের গল্পে কেটে যেত তার প্রতিটা দিন।কিন্তু সবাই যেদিন স্বজন-বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে আনন্দ করবে, এমন দিনে ভাইকে ছাড়া পার করতে হবে ঈদের দিন! 

পুরো পরিবারের কারো চেয়ে কারো কষ্ট-বেদনা কম নাই। বাবাও যেন মেনে নিতে পারছেন না ছেলে হারানোর শোক। ছেলেকে ছাড়াই ঈদ এ কি সম্ভব?  ঈদ উল আযহার এমন আনন্দঘন মুহুর্তে রিফাত নেই, ভাবতেই পারছেন না তার বাবা । বাবা-ছেলের নানা সুখস্মৃতি জড়িয়ে আছে বিগত বছরের ঈদগুলোতে। রিফাত নেই তো ঈদও নেই। বরং আছে বুকজুড়ে একরাশ কষ্টের আর্তনাদ। অন্য স্বজনদের অবস্থাও কম নয়। সবার আনন্দই ফিকে হয়ে গেছে একমাত্র রিফাতের অবর্তমানে। 

দেড় মাস আগে, গত ২৬শে জুন সকালে বরগুনা সরকারী কলেজের সামনে দৃর্বৃত্তদের অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর যখম হয়ে রিফাত মারা যায়। দেশব্যাপী আলোচিত এ হত্যকান্ডে জড়িতদের সবার দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক, দেশবাসীর সাথে সাথে রিফাতের পরিবারেরও এমন প্রত্যাশা।