DBC News
মুজিববর্ষকে স্মরণীয় করতে মহাপরিকল্পনা

মুজিববর্ষকে স্মরণীয় করতে মহাপরিকল্পনা

আগামী বছর ১৭ই মার্চ থেকে শুরু হওয়া মুজিববর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে মহা পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী পালনের জন্য ইতিমধ্যে ১০০ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্বে বঙ্গবন্ধুর ভাবমূর্তি তুলে ধরার পাশাপাশি তাঁর প্রতি বাংলাদেশের মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশই এ আয়োজনের মুল উদ্দেশ্য।

বাঙালি জাতির স্বাধিকার,স্বাধীনতা আর মুক্তির প্রতীক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন ইতিহাসের এই মহানায়ক। মাত্র ৫১ বছর বয়সেই তিনি বাঙালি জাতিকে উপহার দিয়েছিলেন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র।

২০২০ সালের ১৭ই মার্চ পূর্ণ হবে জাতির জনকের জন্মের একশত বছর। তাই ২০২০ থেকে ২০২১ পর্যন্ত এ সময়টিকে মুজিববর্ষ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বছরব্যাপী বঙ্গবন্ধুর জীবনের কীর্তি, অবদান ও মূল্যায়ন জাতির সামনে তুলে ধরতে শুরু করেছে জাতির জনকের জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি ।

কমিটির সদস্যরা জানান, জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন ঘটবে মুজিববর্ষের। সাংস্কৃতিক উপকমিটির সদস্য সচিব লিয়াকত আলী লাকী জানান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রাথমিক আলোচনা অনুযায়ী একটি অনুষ্ঠানে ১০০টি শিশু গান করতে পারে। ১০০ জন আবৃতি করবে। ১০০ জন বাউল হয়তো গান পরিবেশন করবেন। এছাড়াও জর্জ হ্যারিসনের ছেলেকে আনার পরিকল্পনা রয়েছে এবং রবিসংকরের ছেলেকে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। 

দেশে ও বিদেশে আয়োজন করা হবে সেমিনার, কর্মশালা ও আলোচনা। এমনটি জানান মিডিয়া প্রচার ও ডকুমেন্টেশন এর সদস্য সচিব ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, 'মিডিয়া এবং প্রচার কমিটির পক্ষ থেকেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জন্য নানারকম টিভিসি তৈরি করা, তথ্য চিত্র তৈরি, এক হাজার ডিজিটাল স্ক্রিন স্থাপন, বাংলাদেশের সব টেলিভিশন চ্যানেলকে এর সাথে যুক্ত করা, বিদেশে মিডিয়া ইভেন্ট করা হবে।' 

মুজিববর্ষ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যসচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী জানান, সকল প্রস্তাব সমন্বয় করেই একটি মহাপরিকল্পনার কাজ এগিয়ে চলেছে।

তিনি বলেন, 'মূলত এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জাতি হিসেবে বঙ্গবন্ধুর প্রতি আমাদের যে কৃতজ্ঞতা সেটা আমরা প্রকাশ করবো। তার ত্যাগ, গৌরবের উত্তরাধিকার হিসেবে আমরা সেটা উদযাপনও করবো। এরইমধ্যে আমরা মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছি, মুজিববর্ষের জন্য এক’শ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।' তরুণ প্রজন্মকে এই মহাযজ্ঞের সাথে সম্পৃক্ত করে বঙ্গবন্ধুর আর্দশে অনুপ্রাণিত করাও মুজিববর্ষ পালনের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।