DBC News
নতুন মহামারি আতংকের নাম ‘ক্যানডিডা অরিস’

নতুন মহামারি আতংকের নাম ‘ক্যানডিডা অরিস’

বিশ্বে নতুন এক সুপার বাগ আতঙ্কের নাম ক্যানডিডা অরিস। ওষুধ প্রতিরোধী এক ফাঙ্গাস বা ছত্রাক, যা আবিষ্কৃত হয়েছিলো মাত্র ১০ বছর আগে। হাসপাতালে থাকা অণুজীবের মধ্যে এখন বিশ্বের সবচেয়ে আতঙ্কজনক এই ফাঙ্গাস। বিশ্বজুড়ে এই ফাঙ্গাসের আক্রমণে মহামারির উপক্রম হয়েছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণেই বৃদ্ধি পাচ্ছে এর সংক্রমণের হার।

ক্যানডিডা অরিস এক ধরণের ফাঙ্গাস বা ছত্রাক যা মানব দেহে সংক্রমণ তৈরি করতে পারে। মুখ ও গলায় ক্ষত তৈরির মতো সংক্রমণ তৈরি করে এটি। ২০০৯ সালে জাপানে টোকিও মেট্রোপলিটন গেরিয়াট্রিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর কানের ভেতর প্রথম পাওয়া যায় এই ছত্রাক। বেশিরভাগ সময়ই এটি আমাদের ত্বকে কোন ধরণের ক্ষতি না করেই বসবাস করে। তবে, সংবেদনশীল কোন স্থান যেমন রক্তনালী কিংবা ফুসফুসে চলে গেলে এটি সংক্রমণ তৈরি করতে পারে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ক্যানডিডা অরিস মানব দেহে রক্তপ্রবাহে সংক্রমণ তৈরি করে। এছাড়া নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস ব্যবস্থা, কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র, দেহের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন অঙ্গ এবং ত্বকেও সংক্রমণ তৈরি করতে পারে। এর সংক্রমণ বেশ মারাত্মক। সারা বিশ্বে, যারা এই সংক্রমণে আক্রান্ত হন তাদের ৬০ ভাগই মৃত্যুবরণ করেন। আর, এই ছত্রাক সাধারণত ওষুধ প্রতিরোধী হওয়ায় সংক্রমণ ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়াও, অনেক সময়ই এই সংক্রমণকে অন্য কোন অসুস্থতা বলে ভুল করা হয়। যার কারণে দেয়া হয় ভুল চিকিৎসা।

সাধারণত এই ছত্রাকের সংক্রমণ সচরাচর খুব একটা হয়না। তবে, কেউ যদি দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতাল কিংবা নার্সিং হোমে থাকেন, আর চিকিৎসার কারণে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করতে হয় তাহলে ক্যানডিডা অরিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। কারণ এটি সংক্রমণরোধী ভাল ব্যাকটেরিয়াও মেরে ফেলে।

২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে ৬০ জন রোগী সি. অরিসের সংক্রমণের শিকার হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর জানিয়েছে, ধীরে ধীরে বিশ্বের অনেক দেশেই সি. অরিসের সংক্রমণের খবর মিলছে। ইউরোপের বেশিরভাগ দেশেই এই ছত্রাকের সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। সর্বশেষ চলতি বছরের এপ্রিলে গ্রিসে এই সংক্রমণের খবর মেলে।

এক গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সি. অরিস ছত্রাক বেশি তাপমাত্রায় বেঁচে থাকতে বাধ্য হওয়ায় এর সংক্রমণের হার বেড়ে গেছে। বেশিরভাগ ছত্রাকই কম তাপমাত্রায় মাটিতে বসবাস করতে পছন্দ করে। কিন্তু বৈশ্বিক তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায়, উচ্চ তাপমাত্রার সাথে খাপ-খাইয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে সি. অরিস। মানুষের দেহে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস হওয়ায় তাদের জন্য মানব দেহে বেঁচে থাকা সহজ।

সংক্রমণের সংখ্যা কমাতে হলে প্রথমেই সনাক্ত করতে হবে যে, এই ছত্রাকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে কারা রয়েছে। উন্নত চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হলে প্রাথমিক পর্যায়েই সি. অরিসের সংক্রমণ সনাক্ত করা সম্ভব। আর, এর ফলে সঠিক চিকিৎসা দেয়ার মাধ্যমে অন্য রোগীদের মধ্যে এর সংক্রমণ ঠেকানো সম্ভব।

সি. অরিস বেশ শক্তিশালী এবং এটি খোলা পরিবেশে অনেক দিন ধরে বেঁচে থাকতে পারে। সাধারণ ডিটারজেন্ট এবং সংক্রমণরোধী রাসায়নিক দিয়ে একে মেরে ফেলা যায় না। যেসব হাসপাতালে এই সুপার বাগের সংক্রমণ ধরা পড়েছে সেখানে উপযুক্ত পরিষ্কারক রাসায়নিক ব্যবহার করে এর সংক্রমণ রোধ করা যেতে পারে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

আরও পড়ুন

ইসরাইলে হালাল সেক্সশপ দিতে চান ইহুদি এই নারী

ইসরাইলের জেরুজালেমে একটি সেক্স শপ খুলতে চান বোটিচ নামের ইহুদি এক নারী। তিনি দেশটির রাজধানী তেল আবিবে ইহুদিদের জন্য একটি হালাল সেক্স শপ পরিচালনা করছেন।বিতর্...

অস্ট্রেলিয়ায় পাখির আক্রমণে সাইকেল আরোহীর মৃত্যু

পাখির আক্রমণে মৃত্যু হল এক সাইকেল আরোহীর। রোববার অস্ট্রেলিয়ায় রাজধানী সিডনির দক্ষিণে ওলংগং নামের এক শহরে দোয়েল প্রজাতির ম্যাগপাই পাখির আক্রমণের মুখে মৃত্যুবরণ ক...

কেমোথেরাপিতে এখন হারাতে হবে না চুল

ক্যান্সারের চিকিৎসায় কেমোথেরাপি থেকে চুল পড়া রোধ করা সম্ভব বলে সম্প্রতি একটি গবেষণায় প্রমানিত হয়েছে। ইএমবিও মলেকুলার মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে...

'অর্থ সহায়তা পাবে ১ হাজার স্টার্টআপ'

২০২১ সালের মধ্যে এক হাজার স্টার্টআপ বা উদ্যোগকে বড় আকারে কার্যক্রম শুরু করার জন্য অর্থ সহায়তা দেবে সরকার; জানিয়েছেন সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্র...

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৬১৯ জন

রাজধানীসহ সারাদেশে কমতে শুরু করেছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। ডেঙ্গু রোগের ‘পিক টাইম’ সেপ্টেম্বর মাস হলেও বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা...

কিশোরগঞ্জের একটি সফল কমিউনিটি ক্লিনিক

অবকাঠামো ও জনবল কম থাকলেও, কিশোরগঞ্জের আঙ্গিয়াদি কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যসেবায় সন্তুষ্ট স্থানীয়রা। চিকিৎসার পাশাপাশি বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ, স্বাস্থ্যবিষয়ক প...