DBC News
শেষ হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ

শেষ হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ

অবশেষে, বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিদ্যুৎকেন্দ্রের তকমা পাওয়া সিদ্ধিরগঞ্জ কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। বাষ্প টারবাইনের ইউনিটটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসবে আগামীকাল। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আশা করছেন, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হলে এখান থেকে সাশ্রয়ী দামে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।

সিদ্ধিরগঞ্জ ৩৩৫ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি একেনেকে অনুমোদন পায় ২০০৭ সালে। কয়েকদফা পিছিয়ে ২০১২ সালে স্পেনের আইসোলেক্স এবং কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান স্যামসাং সাথে প্রকল্প বাস্তবায়নে চুক্তি সই হয়। তবে, প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই দেশ ছাড়ে আইসোলেক্স। সময় গড়িয়ে এককভাবে দায়িত্ব নেয় স্যামসাং। 

সিদ্ধিরগঞ্জে ২১৮ মেগাওয়াটের প্রথম ইউনিটটি চালু হয়েছে ২০১৮ সালে মে মাসে। ৩২ কোটি ৭৭ লাখ ডলার খরচের এই প্রকল্পের ১১৭ ইউনিটের স্টিম টারবাইনটিও চালু হতে সময় নিয়েছে নির্ধারিত সময়ের ঢের বেশি।

২০১৬ সালে পরিকল্পনামন্ত্রনালয়ের পরীবিক্ষণ বলেছে, প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ ধরা হয়েছে ৯৬১ ডলার যা ওই সময় একই ধরনের নির্মানাধীন যে কোন কেন্দ্রের চেয়ে খরচ বেশি। যদিও তা মানতে নারাজ প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।

বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ইজিসিবি হিসাব দিয়েছে, প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতায় খরচ ৯৭৮ ডলার। আর প্রতি ইউনিট বিদ্যৎ বিক্রি হতে পারে ২ টাকা ৩২ পয়সায়।

ইজিসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক অরুণ কুমার সাহা বলেন, আমাদের এই প্রজেক্টের কাজ দেরী শেষ হলেও খরচ বাড়েনি। যে খরচ ধরা হয়েছে, সেটিই আছে। তবে আমাদের প্রায় তিনটা বছর সময় নষ্ট হয়েছে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নিয়ে আশবাদী বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী এবং পিডিবির চেয়ারম্যান। 

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, আমাদের এই প্রকল্পটি ব্যয়বহুল হলেও এটি এনার্জি সেভ করবে। এটি খুব আধুনিক একটি পাওয়ার প্ল্যান্ট। আমরা আশা করছি এখানে গ্যাসের যে প্রেসার আছে তা চলমান রাখতে পারলে খুব সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।

প্রকল্পটি নির্মাণে বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তা রয়েছে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা।