ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, বর্তমান মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন ঠেকাতে এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় ইরান একইসঙ্গে যুদ্ধ ও কূটনীতির কৌশল অনুসরণ করবে। সোমবার (৮ জুন) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক অডিও বার্তায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
গালিবাফ জানান, গত এপ্রিলের শুরুতে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর পাল্টা জবাব দিতে ইরান অবিলম্বে সামরিক অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত। সম্প্রতি যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা চালানোর প্রতিবাদে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। অথচ, গত ফেব্রুয়ারির শেষে শুরু হওয়া এই মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি চুক্তির মধ্যস্থতা নিয়ে আলোচনা চলছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের পরোক্ষ আলোচনার নেতৃত্ব দেওয়া গালিবাফ আরও বলেন, আগ্রাসন বন্ধে কূটনীতির পথে হাঁটার বিষয়ে তেহরান বরাবরই আন্তরিক। তবে পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং লেবাননে ইসরায়েলি হামলার সামরিক জবাব দেওয়াটাও ইরানের বর্তমান কৌশলের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি বলেন, ‘কূটনীতিকে যদি শুধু রুদ্ধদ্বার বৈঠক বা কূটনৈতিক হাসির মধ্যে সীমাবদ্ধ ভাবি, তবে শুরুতেই আমাদের ব্যর্থ হতে হবে। আবার শুধু সামরিক অভিযান ও যুদ্ধের ওপর নির্ভর করেও আমরা আমাদের অধিকার পুরোপুরি রক্ষা করতে পারব না।’
তার মতে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সংঘাত বৃদ্ধির মূল কারণ হলো ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত অবরোধ এবং লেবাননে ইসরায়েলের হামলা। একে যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইরানি জনগণের অধিকার রক্ষায় আমাদের এমন সিদ্ধান্তমূলক জবাব দেওয়াটা স্বাভাবিক ছিল।’ এ সময় তিনি সশস্ত্র বাহিনীর ‘কর্তৃত্বপূর্ণ’ ভূমিকার প্রশংসা করেন।
লেবাননের পরিস্থিতিকে উদাহরণ হিসেবে টেনে তিনি বলেন, কূটনীতি ও সামরিক পদক্ষেপ একসঙ্গে চললে আগ্রাসী শক্তিকে পিছু হটানো সম্ভব। তার মতে, কূটনীতি সামরিক অভিযানকে বাধাগ্রস্ত করে না, সামরিক অভিযানও কূটনীতির পথে বাধা নয়।’ তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, সামরিক সক্ষমতা শত্রুর আগ্রাসনের চিন্তাকে প্রতিহত করে, আর কূটনীতির মাধ্যমে সেই শক্তিকে আইনি ও অর্থনৈতিক অর্জনে রূপান্তর করতে হয়।
সবশেষে প্রধান আলোচক গালিবাফ স্পষ্ট করে দেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তেহরানের কোনো আস্থা নেই। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য যুদ্ধ বন্ধ করে স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা নয়। প্রতিপক্ষের ওপর আমাদের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই।’
সূত্র: প্রেস টিভি
ডিবিসি/এফএইচআর