লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর মহাসচিব শেখ নাঈম কাসেম আবারও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তার সংগঠন অস্ত্র সমর্পণের কোনো আহ্বান কখনোই মেনে নেবে না। রবিবার (২৪ মে) লেবাননের ‘মুক্ত ও প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক ভাষণে শেখ নাঈম কাসেম বলেন, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের দাবি মেনে নেওয়া মানে হবে সংগঠনটির বিলুপ্তি এবং লেবাননের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার শামিল।
তিনি বলেন, প্রতিরোধ বাহিনীকে নিরস্ত্র করার অর্থ মূলত লেবাননকে তার আত্মরক্ষার সক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করা এবং দেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ। আমরা এটি কখনোই মেনে নেব না।
হিজবুল্লাহ প্রধান ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী ও তাদের সমর্থকদের মোকাবিলায় লেবানন সরকারের দুর্বলতার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার আগ্রাসনকারীদের রুখে দিতে সম্পূর্ণ অক্ষম।
লেবানন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ কাসেম বলেন, আমরা সরকারের কাছে আমেরিকা-ইসরায়েলি প্রকল্প নস্যাৎ করার দাবি জানাচ্ছি না; তবে অন্ততপক্ষে তারা যেন সেই প্রকল্প বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়। লেবানন সরকারের উচিত হবে না নিজের দেশের জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কিংবা ইসরায়েলের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের সাথে নিজেদের মেলাানো।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, লেবানন সরকারের ভেতরে যারা হিজবুল্লাহকে অস্ত্র নামিয়ে রাখার কথা বলছেন, তাদের জানা উচিত যে-এমন পদক্ষেপ ইসরায়েলকে দেশে প্রবেশ করে গণহত্যা চালানো এবং জনগণকে বাস্তুচ্যুত করার সুযোগ করে দেবে।
উল্লেখ্য, লেবাননের পশ্চিমা-পন্থী সরকার হিজবুল্লাহকে অস্ত্র ত্যাগে বাধ্য করার জন্য নানামুখী প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। অনেকের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সন্তুষ্ট করতেই সরকার এই পদক্ষেপ নিচ্ছে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে তথাকথিত শান্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়। ওই চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করা এবং হিজবুল্লাহর পাল্টা জবাব বন্ধের মাধ্যমে শান্তি ফিরিয়ে আনা। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার এই দাবিগুলো সামনে আসছে।
তবে শেখ কাসেম অভিযোগ করেন, প্রায় দুই বছর আগে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী ক্রমাগত লঙ্ঘন করে চলেছে এবং লেবাননে বারবার হামলা চালাচ্ছে। আর লেবানন সরকার সেই চুক্তি কার্যকর করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
হিজবুল্লাহ প্রধান বৈরুত সরকারকে ইসরায়েলের সাথে সরাসরি আলোচনা বর্জনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ ধরনের আলোচনার একমাত্র ফলাফল হবে কেবল ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর নিজস্ব স্বার্থ রক্ষা করা।
চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধের প্রশংসা করে শেখ কাসেম বলেন, গত এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শেষ হওয়া ৩৯ দিনের আগ্রাসনের সময়ে এবং এর পরেও ইরানিরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে চরমভাবে অপমানিত করেছে।
তিনি বলেন, ইরান তার নেতৃত্ব, জনগণ এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (আইআরজিসি) সাথে নিয়ে এত জুলুমের বিরুদ্ধে শক্তভাবে দাঁড়িয়েছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নতজানু হতে বাধ্য করেছে। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, এই আগ্রাসনের যুদ্ধ থেকে ইরান একটি আন্তর্জাতিক মর্যাদাসম্পন্ন অনন্য পরাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে, যার ওপর বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষ ভরসা রাখবে।
সূত্র: প্রেস টিভি
ডিবিসি/এসএফএল