আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প ‘ফেল’!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৫ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক লড়াইয়ে প্রতিটি ক্ষেত্রে জয়লাভের দাবি করলেও, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন এক বড় কৌশলগত সংকটের মুখোমুখি। হামলার তিন মাস পেরিয়ে গেলেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কিংবা পারমাণবিক কর্মসূচি, কোনো ক্ষেত্রেই ইরানকে নতি স্বীকার করাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র।

বিশ্লেষকদের মতে, যে যুদ্ধকে ট্রাম্প একটি স্বল্পমেয়াদী ও সহজ জয় হিসেবে পরিকল্পনা করেছিলেন, তা এখন দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত ব্যর্থতার দিকে মোড় নিয়েছে।

 

নিজের প্রতিপক্ষকে ‘লুজার’ বা পরাজিত হিসেবে সম্বোধন করা ট্রাম্পের স্বভাবজাত অভ্যাস হলেও, ইরান সংকটে তিনি নিজেই এখন দোদুল্যমান পরিস্থিতির শিকার। আপাতদৃষ্টিতে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর প্রধান হিসেবে তিনি এমন এক দেশের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন, যারা নিজেদের অবস্থানে অনড়। ট্রাম্প ওবামা আমলের পারমাণবিক চুক্তিতে ফিরতে নারাজ এবং নতি স্বীকার করাকে পরাজয় হিসেবে গণ্য করেন। ফলে এখন তাঁর সামনে দুটি কঠিন পথ খোলা রয়েছে: হয় পছন্দ না হওয়া সত্ত্বেও সমঝোতায় আসা, নয়তো আরও বড় সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি নেওয়া। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস যদিও দাবি করেছেন যে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সব সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছে, কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন।

 

এই যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক অবস্থান ও পররাষ্ট্রনীতির দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জ্বালানির উচ্চমূল্য ও অজনপ্রিয় এই যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের জনসমর্থন কমেছে এবং সামনে থাকা মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টির জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে, আলোচনার পথ বন্ধ হলে ট্রাম্প সীমিত কিন্তু তীব্র হামলার মাধ্যমে পরিস্থিতি থেকে সরে আসতে পারেন, অথবা কিউবার মতো অন্য কোনো দেশে সহজ জয়ের লক্ষ্য খুঁজতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, ট্রাম্পের যেকোনো ভুল পদক্ষেপ ভিয়েতনাম বা আফগানিস্তান যুদ্ধের চেয়েও বড় ধাক্কা দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকে।

 

ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীকে মদদ দেওয়া বন্ধ করা কিংবা বর্তমান শাসকদের উৎখাত, ট্রাম্পের কোনো লক্ষ্যই এখন পর্যন্ত অর্জিত হয়নি। উল্টো ইরান টিকে থাকার মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ অব্যাহত রেখেছে। ইউরোপীয় মিত্ররাও এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ওয়াশিংটনের বিচ্ছিন্নতাকে বাড়িয়ে দিয়েছে।

 

সূত্র: রয়টার্স

 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন