ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) সর্বশেষ প্রাদুর্ভাবের শিকার হয়ে তিন রেড ক্রস স্বেচ্ছাসেবকের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদেহ সৎকারের কাজ করার সময় তারা প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। শনিবার (২৩ মে) আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (আইএফআরসি) তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে।
সম্প্রতি কঙ্গোতে ইবোলার বুন্দিবুগিও স্ট্রেইনের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। এই নির্দিষ্ট স্ট্রেইনের বিপরীতে বর্তমানে কোনো অনুমোদিত ভ্যাকসিন বা চিকিৎসা নেই। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রবিবার (২৪ মে) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ হিসেবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
আইএফআরসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিহত স্বেচ্ছাসেবকরা হলেন- আজিকো চান্দিরু ভিভিয়ান, সেজাবো কাতানাবো এবং আলিকানা উদুমুসি অগাস্টিন। তারা দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশের মংবিয়ালু শাখায় কর্মরত ছিলেন। গত ৫, ১৫ ও ১৬ মে তারা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
সংস্থাটি জানায়, গত ২৭ মার্চ ইবোলা সংক্রান্ত নয়- এমন একটি মানবিক মিশনের অংশ হিসেবে মৃতদেহ ব্যবস্থাপনার কাজ করার সময় তারা অজান্তেই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হন। কারণ, সে সময় কঙ্গোতে ইবোলার এই নতুন প্রাদুর্ভাবটি শনাক্তই করা যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইবোলা আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার মরদেহ অত্যন্ত সংক্রামক থাকে। কোনো রকম সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম ছাড়া পরিবারের সদস্যরা মৃতদেহ সৎকার বা দাফন করলে এই ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা কঙ্গোতে সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। মাঠপর্যায়ে আইএফআরসি কর্মীরা এই অনিরাপদ দাফন প্রক্রিয়া ঠেকাতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
সহকর্মীদের হারিয়ে শোকগ্রস্ত আইএফআরসি এক বিবৃতিতে বলেছে, এই স্বেচ্ছাসেবকরা অত্যন্ত সাহস ও মানবিকতার সাথে নিজেদের সম্প্রদায়ের সেবা করতে গিয়ে জীবন উৎসর্গ করেছেন।
বর্তমানে রেড ক্রসের স্বেচ্ছাসেবীরা কঙ্গোর উপদ্রুত এলাকাগুলোতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ইবোলা সংক্রান্ত বিভিন্ন গুজব ও বিভ্রান্তি দূর করতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
এদিকে কঙ্গোর প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও নতুন করে তিনজনের শরীরে ইবোলা শনাক্ত হয়েছে। এর ফলে উগান্ডায় চলমান প্রাদুর্ভাবে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে। সীমান্ত পেরিয়ে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ওই অঞ্চলেও সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/এসএফএল