দেশীয় প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎচালিত মেশিনের মাধ্যমে ফেলে দেয়া কলাগাছ থেকে সুতা তৈরি করা হচ্ছে। এরইমধ্যে কলাগাছের সুতা তৈরি করে মজুদ করছে চুয়াডাঙ্গার দুই তরুণ উদ্যোক্তা।
সুতার পাশাপাশি আঁশ দিয়ে বিভিন্ন হস্তশিল্পের কাজও করা হচ্ছে।
কলাগাছ থেকে কলা সংগ্রহের পর গাছটি ফেলে দেয়া হয়। কোনও প্রয়োজনীয়তা না থাকায় মাঠেই পঁচে নষ্ট হয় গাছের কাণ্ড। কিন্তু এবার সেই কলা গাছের খোলস মাঠ থেকে সংগ্রহ করে মেশিনের মাধ্যমে আঁশ ছাড়ানো হয়। সেই আঁশ রোদে শুকানোর পর তৈরি হয় সুতা।
এ কাজের জন্য বিশেষ একটি মেশিন ক্রয় করেন চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার দেউলী গ্রামের দুই তরুণ। এরপর থেকেই শুরু হয় তাদের কর্মযজ্ঞ। আঁশযুক্ত কলার সুতা এখন সুতার কাঁচামাল হিসেবে বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কলাগাছের বর্জ্যগুলোও জৈব সার হিসেবে কাজে লাগানো হচ্ছে।
তরুণ উদ্যোক্তার একজন বলেন, 'ইউটিউবের মাধ্যমে আমরা এ সম্পর্তিত তথ্য পাই এবং মেহেরপুর থেকে এই মেশিনটি সংগ্রহ করি। ফেলে দেয়া কলাগাছগুলো নিয়ে এসে আমরা কাজে লাগাই। এতে জমির মালিকসহ সবারই উপকার হয়।'
শুধু সুতাই নয়, গাছের আঁশ থেকে তৈরি হচ্ছে হস্তশিল্পের নানা জিনিস। এ কাজের সাথে সম্পৃক্তদের একজন বলেন, 'কলমদানি ও পাপসসহ অনেক কিছুই আমরা তৈরি করেছি।'
পরিবেশবান্ধব হওয়ায় বিদেশে কলাগাছের সুতার রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। তবে, ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশের পাশাপাশি সরকারি সহায়তারও দাবি জানান তরুণ দুই উদ্যোক্তা। উদ্যোক্তাদের একজন বলেন, 'কলাগাছ থেকে যে সুতা তৈরি করছি তা বাজারজাত করেও সেরকম দাম পাচ্ছিনা।'
সুতা তৈরির বিষয়টি এখনও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে জানিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, 'সুতার যে মান, সেটা যদি বিএসটিআইয়ের মতো কোন সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে অনুমোদন করা হয় তাহলে এই প্রযুক্তির সেবা সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়া যাবে।'