বাংলাদেশ

খুলনায় এক লাখ টাকার চুক্তিতে ৩ খুন, ‘মিশনে’ ছিলেন ৭ জন

খুলনা প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewsTwitter NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

খুলনায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ফুফাতো ভাইয়ের দুই শিশু সন্তান ও শাশুড়িকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা উঠে এসেছে মূল পরিকল্পনাকারী শামীম আহম্মেদের জবানবন্দিতে। মাত্র ১ লাখ টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে খুনি দিয়ে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করা হয়।

শনিবার (২৯শে নভেম্বর) দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) সদর দপ্তরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্ এসব তথ্য জানান।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা শামীম আহম্মেদ এবং নিহত শিশুদের বাবা সেফার আহম্মেদ সম্পর্কে মামাতো-ফুফাতো ভাই। জমিজমা ও জাল দলিল সংক্রান্ত মামলার জেরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ২০২৩ সালে একটি অস্ত্র মামলায় কারাগারে থাকার সময় শামীমের সঙ্গে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সখ্যতা গড়ে ওঠে। কারাগার থেকে বেরিয়ে শামীম সেই পরিচিত সন্ত্রাসীদের ১ লাখ টাকার বিনিময়ে ভাড়া করেন এবং ফুফাতো ভাই সেফার আহম্মেদের পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা করেন।

 

পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ১৬ নভেম্বর শামীম সন্ত্রাসীদের নিয়ে নগরীর লবণচরা (মোল্লাপাড়া) এলাকায় সেফার আহম্মেদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। সেখানে অবস্থানরত সেফার আহম্মেদের শাশুড়ি ও দুই সন্তানকে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন নানি শাহীতুন নেসা এবং দুই নাতি-নাতনি মুসতাকিম (৮) ও ফাতিহা (৭)। হত্যাকাণ্ডের এই মিশনে শামীমসহ মোট ৬-৭ জন অংশ নেয়। সেফার আহম্মেদ ও তার স্ত্রী রুবিনা আক্তার কর্মস্থলে থাকায় এবং বাড়িতে ফিরতে দেরি হওয়ায় তারা প্রাণে বেঁচে যান, তবে বাড়ি ফিরে তারা এই বীভৎস দৃশ্য দেখতে পান।

 

এ ঘটনায় ১৮ নভেম্বর নিহত শিশুদের বাবা সেফার আহম্মেদ লবণচরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে তরিকুল ইসলাম তারেক ও তাফসির হাওলাদার নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে।

 

সর্বশেষ গত ২৬ নভেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে দেশত্যাগের চেষ্টা করার সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মূল পরিকল্পনাকারী শামীমকে আটক করে পুলিশ। আটকের পর তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডে নিজের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।
 

ডিবিসি/পিআরএএন

আরও পড়ুন