যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাঝেই দক্ষিণ লেবাননের ঐতিহাসিক শহর টায়ারে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। মঙ্গলবার (৯ জুন) চালানো এই হামলার আগে শহরটির খ্রিষ্টান অধ্যুষিত এলাকার বাসিন্দাদের জন্য এক বিরল সরে যাওয়ার নির্দেশ জারি করে ইসরায়েল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক জরুরি বার্তায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র আভিচায় আদ্রাই টায়ার ও এর আশপাশের বাসিন্দাদের সতর্ক করেন। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে হামলা চালানোয় প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হচ্ছে। এর আগে টায়ার শহরের খ্রিষ্টান অধ্যুষিত এলাকাগুলোকে এই ধরনের নির্দেশের বাইরে রাখা হলেও, আইডিএফ এবার দাবি করেছে যে হিজবুল্লাহ ওই এলাকায় কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং সে কারণেই এলাকাটিতে তাদের লক্ষ্যবস্তু করতে হচ্ছে। এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো এলাকাটিতে এ ধরনের দাবি করল ইসরায়েল।
লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির (এনএনএ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার টায়ারের একটি পাবলিক হাউজিং এলাকায় নতুন করে এই হামলা চালানো হয়। সেখানে নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালানোর সময় উদ্ধারকর্মীরা আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। এর আগে, গত সোমবার শহরটিতে ইসরায়েলি হামলায় পাঁচজন নিহত এবং আটজন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল লেবানন কর্তৃপক্ষ।
ইসরায়েল ও লেবানন সরকারের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি চলমান থাকা সত্ত্বেও এই নতুন হামলার ঘটনা ঘটল। তবে হিজবুল্লাহ এই চুক্তির অংশ নয়। সশস্ত্র গোষ্ঠীটি আগেই জানিয়েছিল, লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি থাকা পর্যন্ত তারা এই চুক্তি মানবে না। অন্যদিকে ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহর চুক্তি লঙ্ঘনের কারণেই ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের উত্তরে অবস্থিত উপকূলীয় শহর টায়ার খালি করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
সূত্র: সিএনএন
ডিবিসি/এফএইচআর