আন্তর্জাতিক, ভারত

প্রথমবারের মত ১২ টি পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করল ভারত!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ভারতের পারমাণবিক অস্ত্র নীতির ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই বা সিপ্রি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এই অস্ত্র-পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার মতে, ভারত প্রথমবারের মতো ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড বা যুদ্ধাস্ত্র ‘মোতায়েন’ করেছে। এর ফলে কয়েক দশক ধরে পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং এর সরবরাহ ব্যবস্থা বা ডেলিভারি সিস্টেম আলাদা রাখার যে নীতি নয়াদিল্লি অনুসরণ করে আসছিল, তা থেকে তারা বড়সড়ভাবে সরে এসেছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

সিপ্রির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই প্রথমবার ভারতের অস্ত্রাগারকে ‘মজুতকৃত’-এর বদলে ‘কার্যকরভাবে মোতায়েনকৃত’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে। এর মানে হলো, ভারত প্রথমবারের মতো পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্রগুলোকে তাদের ডেলিভারি সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করেছে অথবা সেগুলোকে অপারেশনাল ফোর্সের ঘাঁটিতে স্থাপন করেছে। ভূগর্ভস্থ মিসাইল সাইলো এবং নতুন পারমাণবিক সাবমেরিনে ছোড়ার জন্য প্রস্তুত পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করা মূলত তাদের উচ্চতর প্রস্তুতিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

সোমবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত এক বছরে ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে প্রায় ১৯০টিতে দাঁড়িয়েছে। সেই সঙ্গে একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিনে (এসএসবিএন) অল্পসংখ্যক যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করে ভারত সমুদ্রে প্রতিরোধমূলক টহলও পরিচালনা করছে। এই অস্ত্রগুলো ভারতের বিমান, স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং এসএসবিএন, এই তিন মাধ্যমের পারমাণবিক শক্তির আওতায় ব্যবহৃত হবে।

 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে এমনটাই ধারণা করা হতো যে শান্তিকালীন সময়ে ভারত তাদের পারমাণবিক ওয়ারহেডগুলোকে মোতায়েনকৃত লঞ্চার থেকে আলাদা রাখে। কিন্তু, সম্প্রতি ক্যানিস্টারে মিসাইল স্থাপন এবং সমুদ্রভিত্তিক টহল পরিচালনার যে পদক্ষেপগুলো ভারত নিচ্ছে, তা থেকে মনে হচ্ছে, তারা শান্তিকালীন সময়েও লঞ্চারের সঙ্গে কিছু ওয়ারহেড যুক্ত রাখার দিকে এগোচ্ছে।

 

উল্লেখ্য, পারমাণবিক অস্ত্রের ক্ষেত্রে ভারত ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ বা ‘প্রথমে ব্যবহার না করা’র নীতি মেনে চলে। তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে, তারা কখনোই প্রথমে পারমাণবিক হামলা শুরু করবে না। কেবলমাত্র ভারতের ভূখণ্ডে বা যেকোনো স্থানে ভারতীয় বাহিনীর ওপর পারমাণবিক হামলা হলেই তারা এর পাল্টা জবাব হিসেবে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে। ভারত মূলত অস্ত্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত না হয়ে সম্ভাব্য আক্রমণকারীদের নিরুৎসাহিত করার উদ্দেশ্যেই একটি সীমিত কিন্তু কার্যকর পারমাণবিক অস্ত্রাগার বজায় রাখে।

 

সূত্র: এনডিটিভি
 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন