ভারতের মেহসানা জেলায় ঘটে যাওয়া এক লোমহর্ষক ঘটনার জট খুলেছে এক যুবকের আত্মহত্যার মধ্য দিয়ে। চলতি মাসের শুরুর দিকে জেলার একটি সরকারি হাসপাতালের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন গিরিশ (৩০) নামের ওই যুবক। পুলিশ তার পকেট থেকে উদ্ধার করা একটি সুইসাইড নোটের সূত্র ধরে নিজ বাড়ি থেকেই তার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা (২৯) ও দুই বছর বয়সী মেয়ে পরীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। দীর্ঘ সাত মাস আগে স্ত্রী-কন্যাকে হত্যার পর ঘরের মেঝেতেই তাদের পুঁতে রেখেছিলেন তিনি।
সবচেয়ে বিস্ময়কর ও গা শিউরে ওঠা বিষয় হলো, হত্যার পর মরদেহগুলো মাটিচাপা দিয়ে তার ওপর সিমেন্টের প্লাস্টার করে দেন গিরিশ। এরপর গত সাত মাস ধরে নিজের আরেক মেয়েকে নিয়ে ওই ঘরেই বসবাস করছিলেন তিনি। এমনকি যেখানে স্ত্রী-কন্যার মরদেহ পুঁতে রাখা হয়েছিল, সেখানে বসেই তিনি নিয়মিত খাওয়া-দাওয়া করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চার বছর আগে সহপাঠী প্রিয়াঙ্কাকে ভালোবেসে কোর্ট ম্যারেজ করেছিলেন গিরিশ। শুরুতে দুই পরিবার বিয়েতে অমত জানালেও পরে তা মেনে নেয়। গিরিশ একটি কারখানার ডায়মন্ড পলিশ বিভাগে এবং প্রিয়াঙ্কা স্থানীয় একটি হাসপাতালে চাকরি করতেন। বিয়ের এক বছরের মাথায় গিরিশের মায়ের মৃত্যুর পর তাদের সংসারে যমজ কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। মেয়েদের জন্মের পর প্রিয়াঙ্কা চাকরি ছেড়ে দিলে সংসারে খরচ বাড়তে থাকে। দুই পরিবার তাদের আর্থিকভাবে সাহায্য করা সত্ত্বেও অভাব-অনটন থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চরম কলহ শুরু হয়।
প্রিয়াঙ্কার দাদা রমনভাই যোগী জানান, পারিবারিক এসব দ্বন্দ্বের কথা প্রিয়াঙ্কা প্রায়ই তাকে জানাতেন। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে দাদার সঙ্গে প্রিয়াঙ্কার কথা হয়। এরপর থেকেই তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন গিরিশ তাকে ফোন করে জানান, প্রিয়াঙ্কা মেয়ে পরীকে নিয়ে কোথাও চলে গেছেন এবং অন্য মেয়ে চাহাত তার কাছেই আছে। খবর পেয়ে রমনভাই গিরিশের বাড়িতে ছুটে যান এবং থানায় অভিযোগ করার কথা বলেন। কিন্তু গিরিশ ‘প্রিয়াঙ্কা ফিরে আসবে’ বা ‘আগেও এমন হয়েছে’ ইত্যাদি নানা অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যান। এতে রমনভাইয়ের সন্দেহ ঘনীভূত হতে থাকে।
দীর্ঘ সাত মাস পর চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল প্রিয়াঙ্কার দাদা নাতনি ও নাতনির মেয়ের নিখোঁজের বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ গিরিশকে দুবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকে। গিরিশ কাজে যাওয়ার সময় মেয়ে চাহাতকে তার বোনের বাসায় রেখে যেতেন বিধায় তার বোনকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়।
স্থানীয় থানার পুলিশ পরিদর্শক এম এন দাভে জানান, ঘটনাটি সন্দেহজনক হওয়ায় তদন্তের স্বার্থে গিরিশকে তার বোনসহ থানায় আসতে বলা হয়েছিল। কিন্তু বোনকে নিয়ে থানায় আসার আগেই তিনি হাসপাতালের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
পরবর্তীতে পুলিশের উপস্থিতিতে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে গিরিশের বাড়ির নির্দিষ্ট স্থানে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় মাটি খুঁড়ে মা ও মেয়ের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। চার ফুট গভীর থেকে উদ্ধার করা হাড়ের নমুনা বিশ্লেষণ করে সেগুলো প্রিয়াঙ্কা ও পরীর বলে নিশ্চিত হওয়ার পর শেষকৃত্যের জন্য তা প্রিয়াঙ্কার দাদা রমনভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
ডিবিসি/এফএইচআর