আন্তর্জাতিক, আমেরিকা

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৪৮ মিনিট আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের আকাশে সামরিক মহড়া পরিচালনা করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। গত ৩ জানুয়ারি রাজধানী কারাকাসে হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে মার্কিন সেনারা বন্দি করার পর এটিই ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সামরিক মহড়া।

ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষের মতে, জানুয়ারির ওই হামলায় অন্তত ১০০ জন নিহত হয়েছিল।


ভেনেজুয়েলা সরকারের দাবি, সম্ভাব্য জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে উদ্ধার অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে তারা এই মহড়ার অনুমোদন দিয়েছে। এই মহড়ায় দুটি এমভি-২২বি অসপ্রে উড়োজাহাজ মার্কিন দূতাবাসের কাছে অবতরণ করে এবং ক্যারিবিয়ান সাগরে ভেনেজুয়েলার জলসীমায় মার্কিন নৌযান প্রবেশ করে। তবে এ বিষয়ে ভেনেজুয়েলার তথ্য মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।


এক বিবৃতিতে মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তিন ধাপের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার স্থিতিশীলতা রক্ষায়।


আমেরিকার সামরিক কার্যক্রম তদারকিকারী ইউ.এস. সাউদার্ন কমান্ডের কমান্ডার ফ্রান্সিস ডোনোভান একটি অসপ্রে উড়োজাহাজে করে কারাকাসে পৌঁছান এবং সেখানে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।


রাজধানীতে বসবাসকারী ৫৭ বছর বয়সী প্রশাসক এভলিন রেবোলেদো এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, এই পরিস্থিতি আমাদের সতর্ক থাকতে বাধ্য করছে।


তিনি আরও বলেন, আমাদের শহরের আকাশে ভিনদেশি সামরিক বাহিনীর উড়োজাহাজ ওড়াটা আমাদের জন্য নতুন একটি ব্যাপার। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এমন কিছু আসাটা দেশের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে আরও বেশি উদ্বেগের। এটি আমাদের এক ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।


ট্রাম্প প্রশাসন ডেলসি রদ্রিগেজের (মাদুরোর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট) নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে। এই সরকার সম্প্রতি এমন আইন পাস করেছে যার মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল মজুত এবং খনিজ সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।


এদিকে, শনিবার পানামা সিটিতে এক সমাবেশে শত শত ভেনেজুয়েলান প্রবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছেন দেশটির বিরোধী দলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। তিনি তাদের আন্দোলন আরও সুসংগঠিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।


তিনি বলেন, আমার দেশে ফিরে যাওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছে। সামনে বড় কিছু আসতে চলেছে, যা হতে চলেছে বিশাল।


ট্রাম্পের আনুকূল্য লাভের চেষ্টা করা এই নোবেল বিজয়ী নেত্রী গত ডিসেম্বরে ভেনেজুয়েলা থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে তার সমর্থক ও নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এর আগে তিনি কয়েকমাস আত্মগোপনে ছিলেন।


উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নির্বাচনে মাদুরো কারচুপির মাধ্যমে জয়ী হয়েছিলেন বলে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে এটি ব্যাপকভাবে স্বীকৃত যে, ওই নির্বাচনে মাচাদোর বিরোধী জোটই ছিল বৈধ বিজয়ী।


সূত্র: রয়টার্স


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন