বিবিধ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

মধ্যযুগের আরবি কবিতায় মিলল ‘সুপারনোভার’ খোঁজ: মহাকাশ গবেষণায় নতুন মোড়

ডেস্ক নিউজ

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewsTwitter NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

মধ্যযুগের আরবি সাহিত্য বিশ্লেষণ করে মহাকাশ গবেষণায় এক চমকপ্রদ তথ্য উদ্ঘাটন করেছেন জার্মানির জেনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। তারা দ্বাদশ শতাব্দীর একটি আরবি কবিতা ও ঐতিহাসিক নথি পর্যালোচনা করে ‘সুপারিনোভা ১১৮১’ (SN 1181)-এর অস্তিত্ব শনাক্ত করেছেন। এতদিন এই মহাজাগতিক ঘটনার কথা কেবল প্রাচীন চীনা ও জাপানি ইতিহাসের রেকর্ড থেকে জানা যেত। এই আবিষ্কার প্রাচীন সাহিত্য ও আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের মধ্যে এক নতুন মেলবন্ধন তৈরি করেছে।

সম্প্রতি Astronomische Nachrichten (অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল নোটস) জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় অধ্যাপক নিউহাউসার ও তার সহকর্মীরা জানান, তারা মিসরের কায়রো থেকে প্রাপ্ত মধ্যযুগীয় আরবি গ্রন্থগুলো নিয়ে তদন্ত করেছেন। এর মধ্যে ইবনে সানা আল-মুলকের লেখা একটি কবিতায় এই সুপারনোভার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। কবিতাটি ১১৮১ থেকে ১১৮২ সালের মধ্যে মিসর ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের প্রখ্যাত মুসলিম সুলতান সালাহউদ্দিনের প্রশংসায় রচিত হয়েছিল। এছাড়া চতুর্দশ শতকের মিসরীয় পণ্ডিত আহমেদ ইবনে আলী আল-মাকরিজির একটি ক্রনিকলেও এর উল্লেখ পাওয়া যায়।

 

বিজ্ঞানের পরিভাষায়, সুপারনোভা হলো বিশাল ভরের কোনো নক্ষত্রের মৃত্যুর সময়কার প্রচণ্ড বিস্ফোরণ। সাধারণত সূর্যের চেয়ে ৮-১০ গুণ বা তার বেশি ভরের নক্ষত্র তাদের জীবনচক্র শেষে বিস্ফোরিত হয় এবং মহাকাশে বিপুল পরিমাণ ধুলো ও গ্যাস ছড়িয়ে দেয়। এর উজ্জ্বলতা এতটাই তীব্র হয় যে, তা দিনের আলোতেও দৃশ্যমান হতে পারে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা একে নতুন তারার জন্মস্থান বা 'নার্সারি' হিসেবেও অভিহিত করেন।

 

এর আগে খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৪৫০০-১০০০ অব্দের দিকে ভারতের বুরজাহামা অঞ্চলে প্রস্তরখোদাইয়ে এবং ১৮৫ খ্রিস্টাব্দে চীনে (SN 185) সুপারনোভার রেকর্ড পাওয়া গিয়েছিল। এবার আরবি সাহিত্যে SN 1181-এর অস্তিত্ব নিশ্চিত হওয়ায় প্রমাণিত হলো যে, প্রাচীন সাহিত্য ও ধর্মীয় গ্রন্থেও মহাজাগতিক ঘটনার মূল্যবান তথ্য লুকিয়ে থাকতে পারে।

 

গবেষকরা জানান, মহাকাশে এই সুপারনোভার সঠিক অবস্থান নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে। তবে প্রাচীন আরবি কবিতায় এই ঘটনার উল্লেখ মহাবিশ্বের বিবর্তন এবং নক্ষত্রের উৎপত্তি ও মৃত্যুর রহস্য উন্মোচনে বিজ্ঞানীদের নতুন পথ দেখাচ্ছে।

 

তথ্যসূত্র: পপুলার সায়েন্স, উইকিপিডিয়া, ইউনিভার্স স্পেস টেক।

 

লেখক পরিচিত :

সিরাজুর রহমান, 
শিক্ষক ও লেখক
সিংড়া, নাটোর
 

ডিবিসি/পিআরএএন

আরও পড়ুন