আন্তর্জাতিক, এশিয়া

মহাকাশ স্টেশনে যাচ্ছেন চীনের ৩ নভোচারী, থাকবেন ১ বছর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

চীনের তিয়াংগং মহাকাশ স্টেশনে এক বছর মেয়াদী একটি ঐতিহাসিক মিশনে নভোচারী পাঠাতে যাচ্ছে বেইজিং। দেশের ইতিহাসে দীর্ঘতম এই মহাকাশ মিশনটি মূলত ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানববাহী মহাকাশযান অবতরণের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যের একটি অংশ।

দীর্ঘ সময় মহাকাশে অবস্থানের ফলে মানবদেহে কী ধরনের শারীরিক ও জৈবিক পরিবর্তন ঘটে, তা গবেষণাই এই মিশনের মূল উদ্দেশ্য।


রবিবার (২৪ মে) স্থানীয় সময় রাত ১১টা ০৮ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ০৮ মিনিট) উত্তর-পশ্চিম চীনের জিউকুয়ান স্যাটেলাইট লঞ্চ সেন্টার থেকে ‘লং মার্চ-২এফ ওয়াই২৩’ রকেটের সাহায্যে ‘শেনঝৌ-২৩’ মহাকাশযানটি উৎক্ষেপণ করা হবে। এই অভিযানে মোট তিনজন নভোচারী অংশ নিচ্ছেন।


অভিযাত্রী দলে পেলোড স্পেশালিস্ট হিসেবে যোগ দিয়ে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন হংকংয়ের সাবেক পুলিশ পরিদর্শক লি জিয়া ইয়িং। তিনিই প্রথম হংকংয়ের নাগরিক, যিনি চীনের কোনো মহাকাশ মিশনে অংশ নিচ্ছেন। দলের বাকি দুই সদস্য হলেন কমান্ডার ঝু ইয়াংঝু এবং পাইলট ঝাং ইউয়ানঝি-উভয়ই পিপলস লিবারেশন আর্মির মহাকাশচারী বিভাগের সদস্য।


মহাকাশযানটিতে থাকা তিন নভোচারীর মধ্যে একজন পুরো এক বছর তিয়াংগং স্পেস স্টেশনে অবস্থান করবেন। এটি চীনের ইতিহাসে দীর্ঘতম মিশন হলেও, ১৯৯৫ সালে এক রাশিয়ান কসমোনটের গড়া সাড়ে ১৪ মাসের বিশ্ব রেকর্ডের চেয়ে কিছুটা কম। মিশন কতদূর এগোচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে নির্ধারণ করা হবে ঠিক কে এক বছর থাকবেন বলে জানিয়েছে ‘চীন ম্যানড স্পেস এজেন্সি’।


চীন এ পর্যন্ত প্রায় ডজনখানেক বার মহাকাশ স্টেশনে নভোচারী পাঠালেও এবারের অভিযানটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমানে চাঁদে আধিপত্য বিস্তার ও খনিজ সম্পদ আহরণের প্রতিযোগিতা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের তীব্র দ্বৈরথ চলছে। ওয়াশিংটন অভিযোগ করে আসছে যে, বেইজিং চাঁদের ভূখণ্ড দখল করতে চায়; তবে চীন এই দাবি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।


মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে মানববাহী যান অবতরণ করাতে চায়, যা চীনের লক্ষ্যের চেয়ে দুই বছর এগিয়ে। এছাড়া দীর্ঘ মেয়াদে মঙ্গলে মানব অভিযানের প্রথম ধাপ হিসেবে চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি গড়তে চায় তারা। গত এপ্রিল মাসেই ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের অংশ হিসেবে নাসার চার নভোচারী চাঁদের চারপাশে এক ঐতিহাসিক চক্কর দিয়ে এসেছেন। অপরদিকে গত শুক্রবারই ইলন মাস্কের স্পেস-এক্স তাদের পরবর্তী প্রজন্মের ‘স্টারশিপ’ রকেটের একটি সফল পরীক্ষা চালিয়েছে, যা নাসার চন্দ্রাভিযানকে আরও ত্বরান্বিত করবে।


২০৩০ সালের ডেডলাইন ছুঁতে চীনের হাতে আর মাত্র চার বছরেরও কম সময় বাকি। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে চন্দ্রাভিযানের জন্য সম্পূর্ণ নতুন হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার তৈরি এবং সেগুলোর কার্যকারিতা প্রমাণ করা বেইজিংয়ের জন্য একটি মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ। পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা তিয়াংগং স্টেশনের নিরাপদ পরিবেশ থেকে চাঁদের দুর্গম পৃষ্ঠে নভোচারীদের নিরাপদে নিয়ে যাওয়াই এখন তাদের মূল লক্ষ্য।


চীন ইতিমধ্যে ২০৩৫ সালের মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে চাঁদে একটি স্থায়ী ঘাঁটি গড়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। চন্দ্র কর্মসূচির প্রধান বিজ্ঞানী উ ওয়েইরেন জানিয়েছেন, চীনের প্রকাশিত সময়সূচিটি আসলে বেশ সতর্ক ও রক্ষণশীল।


‘শেনঝৌ-২৩’ মিশনটি মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছানোর পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে দ্রুত ডকিং (সংযুক্ত হওয়া) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। ২০৩০ সালের চন্দ্রাভিযানের সফলতার জন্য এই প্রযুক্তি অত্যন্ত জরুরি।


এক বছরব্যাপী এই মিশনে বিজ্ঞানীরা নভোচারীদের ওপর রেডিয়েশন (বিকিরণ), হাড়ের ঘনত্ব হ্রাস এবং মানসিক চাপের প্রভাব নিয়ে বিশদ গবেষণা করবেন। এছাড়া, মহাকাশে মানুষের দীর্ঘমেয়াদী বসবাস ও বংশবৃদ্ধির সম্ভাবনা যাচাই করতে তিয়াংগং স্টেশনে বিশ্বের প্রথম মানব ‘কৃত্রিম ভ্রূণ’ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষাও চালানো হচ্ছে।


সূত্র: রয়টার্স


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন