যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির নজরদারি ড্রোন ‘এমকিউ-৯ রিপার’ বহরে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন ও মিডল ইস্ট আইয়ের তথ্যানুযায়ী, ইরানের সাথে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের মোট রিপার ড্রোন বহরের প্রায় ২০ শতাংশ হারিয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের প্রায় ৩০টি ড্রোন ধ্বংস হয়েছে, যার মধ্যে কিছু আকাশে ভূপাতিত করা হয়েছে এবং বেশ কিছু ড্রোন পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মাটিতেই ধ্বংস হয়েছে।
এই ক্ষয়ক্ষতি চলতি মাসের শুরুতে কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের দেওয়া তথ্যের চেয়েও বেশি এবং তা ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুদ্ধের ব্যয়কে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যা ইতোমধ্যে ২৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘বিধ্বস্ত’ হওয়ার দাবি করলেও, একের পর এক ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনা প্রমাণ করে যে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনো অত্যন্ত কার্যকর। নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্যানুযায়ী, ইরানি কমান্ডাররা মার্কিন ফাইটার জেট ও বোমারু বিমানের নিয়মিত ওড়ার পথ বা ‘ফ্লাইট প্যাটার্ন’ ম্যাপ করতে সক্ষম হয়েছেন, যা সম্ভবত রাশিয়া থেকে পাওয়া স্যাটেলাইট চিত্রের মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে। ইরান নিজস্ব প্রযুক্তির পাশাপাশি রুশ ও চীনা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মিশ্রণ ব্যবহার করছে। এছাড়া, ২০২৫ সালের জুনে যুদ্ধ শুরুর পর চীন ইরানকে অত্যাধুনিক সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ব্যাটারি সরবরাহ করেছে। এমন শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি গত এপ্রিলে একটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার ঘটনা মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
ডিবিসি/এফএইচআর