লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে চুলার আগুন দিয়ে টিকটক ভিডিও বানাতে গিয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে একটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) বিকেলে রায়পুর পৌরসভার মহিলা কলেজ সংলগ্ন পিলার কারখানার পাশের খালপাড় এলাকায় এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, এ ঘটনায় ঘরের আসবাবপত্র, স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুড়ে যাওয়া ওই ঘরে মা-মেয়েসহ একটি পরিবার ভাড়া থাকতেন। তরুণী রানি আক্তার ফারিয়া প্রায়ই মোবাইলে টিকটক ভিডিও তৈরি করতেন। ঘটনার দিন পরিবারের অন্য সদস্যরা বাইরে ছিলেন। এ সময় রান্নাঘরের চুলার আগুন ব্যবহার করে ভিডিও বানাতে গেলে দুর্ঘটনাবশত আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই তা পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালালেও এর আগেই ঘরের অধিকাংশ মালামাল পুড়ে যায়।
বাড়ির মালিকের স্ত্রী রুবিনা বেগম বলেন, প্রায় দুই বছর আগে ঘরটি ওদের কাছে ভাড়া দিয়েছিলাম। ফারিয়া প্রতিদিনই টিকটক ভিডিও করত। আমরা তাকে অনেকবার নিষেধ করেছি, কিন্তু সে শোনেনি। আগুন নিয়ে ভিডিও করতে গিয়েই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে আমার প্রায় তিন লাখ টাকা এবং তাদের ছয়-সাত লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে।
ফারিয়ার ভাই মিরাজ বলেন, ঘটনার সময় আমি ও মা বাসায় ছিলাম না। আমার বোন টিকটক করত, এটা সত্য। আজ টিকটক করতে গিয়েই আগুন লাগে। আমার বিদেশ যাওয়ার জন্য জমানো নগদ টাকাসহ প্রায় সাত লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর থেকে তার বোনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
স্থানীয়দের দাবি, অগ্নিকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টা পর থেকে ফারিয়াদের পরিবারের কাউকেই আর এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। তারা কোথায় গেছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
রায়পুর ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জসীম উদ্দীন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে চুলার আগুন থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
এ বিষয়ে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি শুনেছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডিবিসি/এসএফএল