আন্তর্জাতিক, আরব

শক্তির মাধ্যমে শান্তি ও মর্যাদার সঙ্গে কূটনীতি অনুসরণ করে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান শক্তির মাধ্যমে শান্তি এবং মর্যাদার সঙ্গে কূটনীতি অনুসরণ করে বলে জানিয়েছেন দেশটির আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি।

রবিবার (২৪ মে) সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। ১৯৮২ সালের ২৪ মে (ইরানি বর্ষপঞ্জিতে ৩ খোরদাদ) কৌশলগত বন্দরনগরী খোররামশহর মুক্তির বার্ষিকী উপলক্ষে তিনি এই পোস্টটি দেন। উল্লেখ্য, ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া আট বছরের যুদ্ধে ৫০০ দিনেরও বেশি সময় ইরাকি দখলে থাকার পর শহরটি মুক্ত হয়।


ঘারিবাবাদি বলেন, খোররামশহর মুক্তির দিনটি দেশের ইতিহাসের একটি চিরস্থায়ী সত্যের অনুস্মারক। এই দিনটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে, আগ্রাসন ও দখলদারিত্বের শিকার কোনো জাতির নিজস্ব ভূখণ্ড, স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষায় বৈধ প্রতিরক্ষার অন্তর্নিহিত অধিকার রয়েছে।


তিনি আরও লেখেন, খোররামশহর ছিল আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় সংকল্পের বিজয়ের প্রতীক। বিশ্বশক্তিগুলোর সমর্থন নিয়ে আগ্রাসন শুরু হলেও, মহান ইরানি জাতির বিশ্বাস, প্রতিরোধ এবং আত্মনির্ভরশীলতার কাছে তা চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছিল।


৪৪ বছর আগে এই দিনে ইরানি বাহিনী খোররামশহর শহরকে শত্রুমুক্ত করেছিল। ৫০০ দিনেরও বেশি সময় ইরাকি দখলের পর এটি ছিল যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।


এই প্রসঙ্গে উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আজ ইরান ঠিক একই নীতি অনুসরণ করে, শক্তির মাধ্যমে শান্তি, মর্যাদার সঙ্গে কূটনীতি এবং আমাদের প্রিয় জনগণ ও দেশ ইরানের আঞ্চলিক অখণ্ডতা, স্বাধীনতা এবং অধিকারের দৃঢ় প্রতিরক্ষা।


গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী বিমান হামলা চালিয়ে শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তা ও কমান্ডারদের হত্যার মধ্য দিয়ে ইরানের ওপর অবৈধ আগ্রাসন যুদ্ধ শুরু করে।


এর জবাবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী পুরো অঞ্চল জুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি সংবেদনশীল ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে ১০০টি সফল প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়। এই অপরাধমূলক আগ্রাসন ইরানের ইসলামী শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করতে ব্যর্থ তো হয়ই, বরং এর ফলে শত্রু জাহাজগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হয়।


পরবর্তীতে যুদ্ধের ৪০ দিনের মাথায়, গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে তেহরান-ওয়াশিংটন আলোচনার প্রথম রাউন্ড কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে তা বাড়ালেও, পাশাপাশি ইরানের ওপর অমানবিক নৌ অবরোধ আরোপ করে।


সর্বশেষ তথ্যমতে, পাকিস্তান তাদের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে তেহরান ও ওয়াশিংটনকে একটি ১৪-দফা সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করার কাছাকাছি নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে।


সূত্র: প্রেস টিভি


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন