জাতীয়

শিশু রামিসার ফরেনসিক রিপোর্টে ধর্ষণের প্রমাণ, আজ চার্জশিট

ডেস্ক নিউজ

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ৭ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী রামিসাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ফরেনসিক রিপোর্টে মৃত্যুর আগে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। রবিবার (২৪ মে) প্রাপ্ত ফরেনসিক রিপোর্ট অনুযায়ী, শিশুটিকে প্রথমে জোরপূর্বক ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং পরে তার দেহ থেকে মাথা ও হাত বিচ্ছিন্ন করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আজ রবিবারই আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

মামলার তদন্ত ও আইনি কার্যক্রমেও দ্রুত অগ্রগতি হচ্ছে। শনিবার (২৩ মে) পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে ডিএনএ রিপোর্ট হস্তান্তর করেছে। পাশাপাশি, আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে এই মামলা পরিচালনার জন্য সরকার আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এর আগে আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলার বিচার কাজ ঈদের পরপরই শুরু হবে।

 

গত বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দি ও পুলিশের তথ্যমতে, গত ১৯ মে (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা বাসা থেকে বের হলে অভিযুক্তরা তাকে কৌশলে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। সোহেল তাকে বাথরুমে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করলে শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। ঠিক সেই মুহূর্তে রামিসার মা মেয়েকে খুঁজতে এসে দরজায় কড়া নাড়তে থাকলে, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সোহেল গলা কেটে শিশুটিকে হত্যা করে।

 

হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে সোহেল চরম পৈশাচিকতার আশ্রয় নেয়। সে ধারালো অস্ত্র দিয়ে রামিসার মাথা শরীর থেকে আলাদা করে একটি বালতিতে রাখে এবং দুই হাত আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মূল দেহটি খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে। এ সময় শিশুটির সংবেদনশীল অঙ্গও ক্ষতবিক্ষত করা হয়। জবানবন্দি অনুযায়ী, ঘটনার সময় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারও ওই কক্ষে উপস্থিত ছিল।

 

পরিবারের সদস্যরা স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য রামিসাকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে তার জুতা দেখতে পান। পরে অনেক ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তারা শিশুটির মাথাবিহীন খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেন। ঘটনার পরপরই ঘরের জানালার গ্রিল কেটে সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। আদালত ইতোমধ্যে সোহেল এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার দুজনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

 

 

ডিবিসি/পিআরএএন

আরও পড়ুন