মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সাথে একটি শান্তি চুক্তির আলোচনা 'বেশিরভাগই সম্পন্ন' হয়েছে এবং খুব শিগগিরই এর বিস্তারিত ঘোষণা করা হবে। শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি নিশ্চিত করেন যে, এই চুক্তির আওতায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও জানান, শান্তি বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ অন্যান্য দেশের নেতাদের সাথে তার অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং অন্যান্য বেশ কয়েকটি দেশের মধ্যে এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, যা চূড়ান্তকরণের অপেক্ষায় রয়েছে। ট্রাম্প দৃঢ়তার সাথে জোর দিয়েছেন যে, এই চুক্তির মাধ্যমে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে অবশ্যই বিরত রাখা হবে। এর পাশাপাশি শনিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথেও তার কথা হয়েছে এবং আলোচনাটি খুব ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, চুক্তির অগ্রগতি সম্পর্কে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে কথা বলেছেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান কাছাকাছি আসলেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে এখনও চূড়ান্ত সম্মতি আসেনি। তিনি বলেন, তারা সমঝোতা স্মারকটি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন এবং আগামী ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে আরও আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে, যার মাধ্যমে পরিশেষে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে। ইসমাইল বাকাই আরও জানান, ইরানের মূল লক্ষ্য হলো ১৪ দফা সম্বলিত একটি কাঠামোর অধীনে চুক্তিতে পৌঁছানো। একইসঙ্গে তিনি আমেরিকানদের বিরুদ্ধে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে সতর্কতা প্রকাশ করেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই দীর্ঘমেয়াদী শান্তি চুক্তির আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ শান্তি প্রতিষ্ঠার এই প্রচেষ্টার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ট্রাম্পের সাথে তার ফোনালাপকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ উল্লেখ করে এক্সে (সাবেক টুইটার) তিনি বলেন, পাকিস্তান খুব শিগগিরই পরবর্তী দফার আলোচনা আয়োজনের আশা করছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর ব্যাপক হামলা চালায়, যার জেরে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বড় ধরনের সংঘাতের সৃষ্টি হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালায়। পরবর্তীতে, এপ্রিলের শুরুতে ইরানে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং এরপর থেকেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এই দীর্ঘমেয়াদী শান্তি চুক্তির আলোচনা চলমান রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
ডিবিসি/পিআরএএন