সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের জন্য পূর্ববর্তী সরকারের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তবে বর্তমানে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার চেয়ে আক্রান্ত শিশুদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করাকেই সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৩ মে) সচিবালয়ে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি)-এর স্বাস্থ্য সরঞ্জাম হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
হামে আক্রান্তদের জরুরি চিকিৎসা সেবা নির্বিঘ্ন রাখতে কঠোর পদক্ষেপের কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালগুলোতে এই রোগের চিকিৎসায় সরাসরি যুক্ত থাকা চিকিৎসকদের আসন্ন ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, সারা দেশে ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে এরই মধ্যে সেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১ কোটি ৮৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে।
ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন, আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) ও এনআইসিইউ (নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র)-এর অভাবে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের ভোগান্তির বিষয়টি স্বীকার করেন মন্ত্রী। এই সংকট মোকাবিলায় রেড ক্রিসেন্টের সহায়তায় বিভিন্ন হাসপাতালে ভেন্টিলেটর, অক্সিজেন মিটার, নেবুলাইজারসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও পর্যাপ্ত স্যালাইন সরবরাহের আশ্বাস দেন তিনি। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আইএফআরসির পক্ষ থেকে হাসপাতালগুলোর পরিচালকদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ২ হাজার ৪০০ রোগীকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে হামে আক্রান্ত দরিদ্র পরিবারগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
সর্বোপরি হামের সংক্রমণ রোধে জনসচেতনতার ওপর জোর দিয়ে অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ পরামর্শ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সংক্রমণ এড়াতে হামে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে আপাতত জনবহুল স্থানে বা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যাতায়াত করা থেকে পুরোপুরি বিরত থাকতে হবে।
ডিবিসি/এফএইচআর