সার্বিয়াভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান Numbeo সম্প্রতি তাদের Health Care Index 2026 প্রকাশ করেছে। এই সূচকে বিশ্বের ১০০টি দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান, চিকিৎসাসুবিধার সহজলভ্যতা, ব্যয়সাশ্রয়িতা, স্বাস্থ্য অবকাঠামো, দক্ষ জনবল এবং নাগরিক সন্তুষ্টির ভিত্তিতে একটি তুলনামূলক র্যাংকিং তৈরি করা হয়েছে।
Numbeo বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্রাউডসোর্সড ডেটাবেস পরিচালনা করে। তাদের প্রকাশিত এই সূচক আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক বা একটি আনুমানিক চিত্র তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসেবার মানে বিশ্বের শীর্ষস্থান অধিকার করেছে তাইওয়ান। নির্ধারিত ১০০ স্কোরের মধ্যে দেশটির অর্জিত স্কোর ৮৭.১। উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা, আধুনিক স্বাস্থ্য অবকাঠামো, দক্ষ চিকিৎসক এবং সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার কারণে তাইওয়ান এ অবস্থানে পৌঁছেছে।
এ সূচকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, যার স্কোর ৮২.৯। তৃতীয় স্থানে থাকা নেদারল্যান্ডসের স্কোর ৮১.৫। এছাড়া চতুর্থ স্থানে জাপান (৮০.১) এবং পঞ্চম স্থানে অস্ট্রিয়া (৭৮.৯) অবস্থান করছে। উন্নত স্বাস্থ্যসেবায় তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশ শীর্ষস্থানে থাকলেও বিশ্বের প্রভাবশালী অনেক দেশ প্রথম দশে জায়গা করে নিতে পারেনি।
এক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য ৭২.৭ স্কোর নিয়ে ২০তম স্থানে, জার্মানি ৭২.৪ স্কোর নিয়ে ২১তম স্থানে এবং চীন ৬৯.২ স্কোর নিয়ে ৩১তম স্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ৬৭.০ স্কোর নিয়ে ৪০তম এবং রাশিয়া ৬১.৬ স্কোর নিয়ে ৫৭তম স্থানে অবস্থান করছে।
তবে হতাশাজনক হলেও সত্য, এ সূচকের একেবারে নিচের দিকে রয়েছে বাংলাদেশ, ভেনিজুয়েলা ও সিরিয়ার নাম। বাংলাদেশ ৪২.০ স্কোর নিয়ে ৯৮তম স্থানে রয়েছে। এছাড়া ভেনিজুয়েলা ৩৯.৯ স্কোর নিয়ে ৯৯তম এবং সিরিয়া ৩৫.৪ স্কোর নিয়ে ১০০তম স্থানে অবস্থান করছে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কা তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে। দেশটি ৭০.৭ স্কোর নিয়ে ৩০তম স্থানে রয়েছে। ভারত ৬৫.৫ স্কোর নিয়ে ৪৫তম এবং নেপাল ৫৭.৯ স্কোর নিয়ে ৭১তম স্থানে অবস্থান করছে। তবে উত্তর কোরিয়া, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো কয়েকটি দেশকে এ সূচকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে শুধু অর্থনৈতিক শক্তি যথেষ্ট নয় বরং প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কার্যকর স্বাস্থ্যনীতি, আধুনিক অবকাঠামো, প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসাব্যবস্থা এবং দক্ষ মানবসম্পদ।
তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো বর্তমানে বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে সফলতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে, বিশ্বের উন্নয়নশীল ও স্বল্প আয়ের দেশগুলোকে স্বাস্থ্য খাতে আরও কার্যকর বিনিয়োগ, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
লেখক: সিরাজুর রহমান, শিক্ষক ও লেখক।
ডিবিসি/আরএসএল